পাহাড়ে মৃত্যুর পাহাড়! বারবার ধস ও হড়পা বানে মানচিত্র থেকে কি মুছে যেতে চলেছে পশ্চিম সিকিমের রিম্বি গ্রাম?

প্রাকৃতিক দুর্যোগের একের পর এক আঘাতে মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে পশ্চিম সিকিমের সুন্দর রিম্বি গ্রামের। পাহাড়ের ঢালে লাগাতার ধস, হড়পা বান এবং কাদামাটির সর্বনাশা স্রোতে বিপর্যস্ত জনজীবন। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, গ্রামটিকে আর মানুষের বসবাসের উপযুক্ত বলে বিবেচনা করা যাবে কি না, তা নিয়ে চূড়ান্ত চিন্তাভাবনা শুরু করেছে রাজ্য প্রশাসন। সিকিমের দুর্যোগ মোকাবিলা দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে রিম্বি গ্রামকে সরকারিভাবে ‘বসবাসের অযোগ্য’ ঘোষণা করা হতে পারে।

প্রবল বর্ষণের জেরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সিকিমের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় ধস নামার ঘটনা ঘটছে। এর ফলে রিম্বি গ্রামে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৩২টি বাড়ি এবং চারটি সরকারি কোয়ার্টার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশ কিছু কাঠের ও আধা-পাকা বাড়ি সম্পূর্ণ ধসে গুঁড়িয়ে গেছে, ফলে বহু পরিবার আজ সর্বস্বান্ত। গত ১৩ অগস্ট দুটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়। পরের দিন প্রবল বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে এবং আরও বহু বসতি ধসের গ্রাসে চলে যায়।

ক্রমাগত ধসের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ চলছে। বর্তমানে ১০৭ জন গ্রামবাসী একটি ত্রাণশিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। পাশাপাশি, পাশের সিংলিতাম এলাকার পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে ওঠায় সেখানকার ৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বাড়ি খালি করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের আশঙ্কা, পাহাড়ের ঢাল আরও বেশি অস্থিতিশীল হয়ে পড়লে নতুন করে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। একসময়ে যে সমস্ত এলাকা তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করা হতো, সেখানেও এখন কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ মেশানো জলের স্রোত আছড়ে পড়ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিকিম সরকার সর্বতোভাবে তৎপর রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং দুর্গত এলাকার ওপর কড়া নজরদারি রাখতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধার ও পুনর্বাসনের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্ষা শেষ হওয়ার পর এলাকায় একটি বহু-বিষয়ক ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্পূর্ণভাবে ঘর হারানো পরিবারগুলিকে ১.৩ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এছাড়া সিকিম হাউজিং স্কিমের আওতায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিকল্প জমি ও নতুন বাড়ি তৈরির সমস্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে।