প্লেন ক্র্যাশ ছিল পুরোটাই সাজানো নাটক! নেতাজিকে নিয়ে ‘দাদাগিরি’র মঞ্চে বিস্ফোরক দাবি গবেষকের!

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু কি সত্যিই ১৯৪৫ সালের বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন, নাকি সমস্তটাই ছিল এক নিখুঁত সাজানো নাটক? গুমনামি बाबा থেকে শুরু করে নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য নিয়ে বিগত কয়েক দশক ধরে নানা মুনির নানা মত রয়েছে। তবে এবার জি বাংলার জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘দাদাগিরি’-র মঞ্চে হাজির হয়ে নেতাজির অন্তর্ধান ও কথিত বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এমন কিছু বিস্ফোরক ও চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন বিশিষ্ট গবেষক তথা লেখক কুণাল বসু, যা শোনার পর রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে।
চলতি বছরের কলকাতা বইমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল কুণাল বসুর বহুল আলোচিত বই ‘নেতাজি ফিরেছিলেন’। লালমোহনবাবুর ভাষায় গরম কচুরির মতো বিক্রি হওয়া সেই বইয়ের গবেষণা ও চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়েই এবার দাদাগিরির মঞ্চে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং বিশেষ অতিথি অভিনেতা দেবের মুখোমুখি হয়েছেন লেখক। গত রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর এই বিশেষ পর্বটি সম্প্রচারিত হওয়ার আগে চ্যানেলের তরফে মুক্তি পাওয়া একটি প্রোমো ঘিরেই এখন নেটদুনিয়ায় বইছে উত্তেজনার ঝড়।
প্লেন ক্র্যাশ থিওরি নিয়ে লেখকের চাঞ্চল্যকর দাবি
দাদাগিরির সেই নতুন প্রোমোতে গবেষক কুণাল বসুকে বলতে শোনা যায়, “আমার গোটা রিসার্চ কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসুর ১৯৪৫ সালে দেশে ফেরাটা নিয়েই। আজও পর্যন্ত জানা যায়নি হিটলারের শেষ পর্যন্ত ঠিক কী হয়েছিল। কারণ? ঠিক একইভাবে সুভাষচন্দ্র বসুর সো-কল্ড প্লেন ক্র্যাশ বা বিমান দুর্ঘটনার যে তত্ত্বটি প্রচার করা হয়, তা সম্পূর্ণ নেতাজির নিজের সাজানো ছিল। তিনি সেখান থেকে অত্যন্ত কৌশলে মানচুরিয়া চলে গিয়েছিলেন। এই প্লেন ক্র্যাশ থিওরি মিথ্যা প্রমাণিত করে তাইওয়ান সরকারও একটি পরিষ্কার রিপোর্ট দিয়েছে। এমনকি জাস্টিস মনোজ মুখার্জি তাঁর কমিশন রিপোর্টে পরিষ্কার জানিয়েছিলেন যে, সেই সময় কোথাও কোনো বিমান দুর্ঘটনা ঘটেনি— না আগে, না পরে।”
নিজের গবেষণা ও তথ্যের সত্যতা নিয়ে এতটাই আত্মবিশ্বাসী কুণাল বসু যে, তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছেন, “আজ গোটা বাংলার মানুষকে আমি একথা বলছি, এই বিষয়ে যদি কেউ আমাকে চ্যালেঞ্জ করতে চান, আমি যেকোনো চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে এবং উত্তর দিতে প্রস্তুত।” গবেষকের এই দৃঢ়তা ও গবেষণার গভীরতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন টলিপাড়ার সুপারস্টার দেবও। লেখকের পিঠ চাপড়ে দেবকে বলতে শোনা যায়, “আসলে কেউ যদি জীবনে দাদাগিরি করে থাকে, তবে তুমি তাঁদের মধ্যে অন্যতম।”
ইতিহাসের ধোঁয়াশা কাটিয়ে নেতাজির অন্তর্ধান রহস্যের নেপথ্যে থাকা এই নতুন তথ্য বাংলা তথা দেশের রাজনীতি ও ইতিহাস চর্চায় ফের এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।