“যুদ্ধের ময়দানে নামল রোবট!”-রাশিয়াকে হারাতে ইউক্রেনের নয়া হাতিয়ার, তোলপাড় বিশ্ব

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান তো দূরের কথা, দিন যত এগোচ্ছে সংঘাতের ঝাঁঝ আরও বাড়িয়ে চলেছে ইউক্রেন। যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের সেনাদের বহুমূল্য জীবন বাঁচাতে এবং রুশ বাহিনীকে জোরদার টক্কর দিতে এবার এক অভিনব ও তাক লাগানো উদ্যোগ নিল কিয়েভ। যুদ্ধক্ষেত্রের সমীকরণ চিরতরে বদলে দিতে ইউক্রেন চালু করল ‘রোবট আর্মি’ (Robot Army) নামক একটি সম্পূর্ণ নতুন কর্মসূচি।

এর আগে ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনী আধুনিক যুদ্ধ কৌশলে এক বিশাল বিপ্লব ঘটিয়েছিল। আকারে ছোট এবং কম খরচের ওই ড্রোনগুলো শত্রুশিবিরের গভীরে নিখুঁত হামলা চালাতে দারুণ পারদর্শী প্রমাণিত হয়েছে। এর ফলে সেনাদের সরাসরি রণক্ষেত্রের ঝুঁকির মুখে না ফেলেই বহু গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন সফলভাবে পরিচালনা করছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। আর এবার সেই প্রযুক্তিকেই আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যুদ্ধের ময়দানে নামানো হচ্ছে রোবট আর্মিকে।

সূত্রের খবর, যুদ্ধক্ষেত্রের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রাণঘাতী কাজগুলি একা হাতে সামলানোর ক্ষমতা রয়েছে এই রোবটগুলোর। আহত সেনাদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া, ফ্রেণ্টলাইনে গোলাবারুদ ও রসদ সরবরাহ করা, সুকৌশলে মাইন পাতা, শত্রুর ওপর নজরদারি চালাতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানার মতো বিপজ্জনক কাজগুলো এখন থেকে এই যন্ত্রমানবরাই করবে।

সম্প্রতি লভিভে অনুষ্ঠিত ‘আইটি অ্যারেনা ২০২৬’ (IT Arena 2026) সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোবটগুলির আত্মপ্রকাশ ঘটান ইউক্রেনের প্রাক্তন আধিকারিক মিখাইলো ফেদোরভ। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এটি পুরোপুরি কোনো সরকারি উদ্যোগ নয়। বরং একটি শক্তিশালী ও আধুনিক প্রযুক্তিগত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার জন্য দেশের সমস্ত বেসরকারি সংস্থা এবং দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই প্রকল্পের মূল এবং প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের পাহারায় থাকা সৈনিকদের অমূল্য জীবন রক্ষা করা। আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন ও রোবটের ভূমিকা নতুন কিছু না হলেও, ইউক্রেন এবার সেগুলিকে আরও অনেক বেশি সংগঠিত ও বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ করতে চাইছে। যুদ্ধক্ষেত্রের অতি বিপজ্জনক কাজগুলি মানুষের পরিবর্তে যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়া গেলে একদিকে যেমন অহেতুক প্রাণহানি আটকানো সম্ভব হবে, তেমনই দেশের সেনাদল আরও বেশি করে কৌশলগত ও নিরাপদ ভূমিকায় মনোনিবেশ করতে পারবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোবোটিক সিস্টেমগুলি আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চরম জটিলতা ও প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে দারুণভাবে সাহায্য করবে। মানুষের মতো ক্লান্তি, অবসাদ বা ভয়ের কোনো বালাই নেই এই রোবটগুলির মধ্যে, ফলে এরা একটানা দীর্ঘ সময় ধরে কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম। তবে এই সিস্টেমগুলির নিখুঁত কার্যকারিতা ও দীর্ঘমেয়াদী নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নয়ন প্রয়োজন। মিখাইলো ফেদোরভের এই নতুন মডেলটি সেই লক্ষ্যেই অত্যন্ত দ্রুতগতিতে কাজ করে চলেছে।