এশিয়ান গেমসে জোড়া রূপো জয়! আমেদাবাদ বিমানবন্দরে পা রাখতেই দেশের গর্ব এলাভেনিলকে ঘিরে বাঁধভাঙা উল্লাস

এশিয়ান গেমসে ভারতের মুকুটে নতুন সাফল্যের পালক গুজে দিয়ে নিজ রাজ্য গুজরাটে পা রাখলেন দেশের কৃতি শুটার তথা দু’বারের এশিয়ান গেমস রৌপ্য পদকজয়ী এলাভেনিল ভলারিভান। আমেদাবাদের সরদার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখতেই তাঁকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব ও বীরোচিত সংবর্ধনার আয়োজন করেন ক্রীড়াপ্রেমী মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা। দেশের হয়ে প্রথম দিনেই পদকের খাতা খুলে ইতিহাস গড়া এই তরুণী শুটারের সাফল্যে গোটা দেশ এখন গর্বিত। বিমানবন্দরে উপস্থিত উৎসুক জনতা ফুলের মালা ও স্লোগানে বরণ করে নেন তাঁদের প্রিয় অ্যাথলিটকে, যা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

এলাভেনিলের এই অভাবনীয় সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তাঁর কঠোর সাধনা এবং পরিবার ও সরকারের অবিচল সমর্থন। মেয়ের ঐতিহাসিক জয়ের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তাঁর বাবা ড. আর. ভলারিভান আবেগঘন কণ্ঠে জানান যে তাঁদের কাছে সবার আগে দেশ। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, “ভারত আজ অত্যন্ত খুশি কারণ সে এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী দিনেই দেশের জন্য প্রথম মেডেল এনে দিয়েছে।” প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর খেলাধুলো সংক্রান্ত স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি জানান যে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী নীতি ও সঠিক সময়ে প্রতিভাদের বেছে নেওয়ার ফলেই আজ দেশের ছেলেমেয়েরা বিশ্বমঞ্চে লাল-হলুদ পতাকা উড়িয়ে দেশের মুখ উজ্জ্বল করছে। ছোটবেলা থেকেই অ্যাথলিটদের প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার সুফল এখন হাতেনাতে মিলছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে, এলার জয়ের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তাঁর দিনের পর দিন করা হাড়ভাঙা পরিশ্রমকে দিয়েছেন তাঁর মা ড. সরোজা ভলারিভান। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান যে এই দীর্ঘ পথ চলায় কেন্দ্রীয় সরকার, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নিরন্তর উৎসাহ, স্থানীয় স্পোর্টস অ্যাকাডেমি এবং স্পোর্টস অথরিটি অফ গুজরাটের সহযোগিতা এক বিরাট ভূমিকা পালন করেছে। অলিম্পিক চ্যাম্পিয়নকে কুপোকাত করে এশিয়ান গেমসে এলাভেনিলের এই রূপো জয় কেবল তাঁর নিজের আত্মবিশ্বাসই বাড়ায়নি, বরং আগামী দিনে দেশের কমনওয়েলথ ও অলিম্পিক পদকের ঝুড়িকে যে আরও সমৃদ্ধ করবে, সে বিষয়ে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা।