মমতার মুখে আাজাদি স্লোগান, বাম-তৃণমূল আঁতাত নিয়ে চরম আক্রমণ শুভেন্দুর

ভোটের ময়দানে সমীকরণ বদলাতে সময় লাগে না। রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে যে কিছু হয় না, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ যেন সেটাই ফের প্রমাণ করল। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং বিজেপি বিরোধী জোটকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সম্প্রতি সব বিরোধী নেতাদের চিঠি দিয়েছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক এম এ বেবি। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে সিপিএম সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবে ইতিবাচক সায় দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একসময় যে সিপিএমের ক্ষমতাচ্যুতির দাবিতে বছরের পর বছর রাজপথ কাঁপিয়েছেন মমতা, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেও যাদের তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা চালিয়ে গেছেন—আজ সেই বাম শিবিরের সঙ্গেই তাঁর এই সখ্যতা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক গুঞ্জন। আর এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই রবিবার এক সাংবাদিক বৈঠক থেকে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানাতে দেখা গেল।

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ কর্মসূচি ‘SIR’ এবং শনিবার শ্রীরামপুরের জনসভাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে বিগত বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের জেরে বিরোধী শিবিরের মধ্যে চরম হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তৃণমূল ও বামফ্রন্ট যৌথভাবে বিভ্রান্তি ও অসত্য বিতর্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতে তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “যে সিপিআইএম-এর বিরুদ্ধে লড়াই করে টিএমসি ক্ষমতায় এসেছিল, আজ মমতা এআইটিসি তাঁদের সঙ্গেই বন্ধুত্ব করছে। বিধানসভাতেও তৃণমূল ও সিপিআইএমের বন্ধুত্ব দেখেছি, আর এখনও দেখছি। সিপিআইএম এখন তৃণমূলের বন্ধু।”

এ দিন শ্রীরামপুরের সভা থেকে ‘আজাদি’ স্লোগানকে সমর্থনের যে বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিয়েছিলেন, তাকেও তীব্র কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে এই ধরনের স্লোগান দেওয়ার অর্থ মানুষ জনাদেশকে অস্বীকার করছে বলেই মনে করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “নতুন পার্টির নেত্রীর মুখেও আজাদি স্লোগান। ফাঁকা মাঠে দাঁড়িয়ে যেভাবে আজাদি আজাদি স্লোগান দিচ্ছেন, তার মধ্যে দিয়ে প্রমাণিত হয়, আপনারা মানুষের জনাদেশ মানতে রাজি নন। নিজেরা আতঙ্কিত, ভীত, সন্ত্রস্ত।”

SIR ইস্যুতেও বিরোধীদের একহাত নেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, কেরলে SIR হলে যদি তা ভালো হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গ বা বিহারে কেন তা খারাপ হবে? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অযথা আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি জানান, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ২০০-র বেশি আসনে জয় পেয়েছে, আর তৃণমূল দুই গোষ্ঠী মিলে ৭০টির কিছু বেশি আসনে জিতেছে। ভোটের এই স্পষ্ট ফলাফলের পরও SIR ও নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা আসলে সাধারণ মানুষের রায়ের প্রতি অনাস্থা জানানোর সামিল বলেই মত প্রকাশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী।