সামান্য বৃষ্টিতেই ভাসবে না আর হাওড়া-বালি! বর্ষার জলযন্ত্রণা দূর করতে এল ঐতিহাসিক ৪৭০২ কোটির প্রকল্প

বর্ষা এলেই হাওড়া ও বালির রাস্তাঘাট জলমগ্ন হয়ে পড়ার চিরপরিচিত ছবি এবার বদলাতে চলেছে। দুই শহরের দীর্ঘদিনের জলযন্ত্রণা চিরতরে দূর করতে প্রায় ৪,৭০২ কোটি টাকার একটি মেগা নিকাশি প্রকল্প হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। এই প্রকল্পের প্রাথমিক রূপরেখা বা পিপিআর তৈরি করে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, এই মেগা প্রকল্পের ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্ক বা এডিবি (ADB)। বাকি ৩০ শতাংশ খরচ বহন করবে খোদ রাজ্য সরকার। আন্তর্জাতিক ঋণদানকারী সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী বৈদেশিক ঋণের অনুমোদন কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমেই কার্যকর করতে হয়। সেই নিয়ম মেনে রাজ্য মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত পাওয়ার পর প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের অধীন কেএমডিএ (KMDA) এই প্রাথমিক খসড়া প্রস্তুত করেছে। বর্তমানে তারা বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা বা ডিপিআর (DPR) তৈরির কাজ চালাচ্ছ। এই দুই প্রাচীন জনপদের অন্যতম প্রধান সমস্যা হলো খোলা নর্দমা। আবর্জনা জমে নিকাশিনালা আটকে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। হাওড়া পুরনিগম এবং বালি পুরসভা এলাকার প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে কার্যকর হতে চলা এই নতুন প্রকল্পের আওতায় পুরো নিকাশি নেটওয়ার্কটি ভূগর্ভস্থ বা ঢাকা ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হবে।
প্রকল্পের খসড়া অনুযায়ী, গোটা এলাকায় মোট ১৬টি নতুন নিকাশি পাম্পিং স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চালু থাকা পাম্পিং স্টেশনগুলির জল নিষ্কাশন ক্ষমতাও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি খালগুলির সংস্কার এবং পলি তোলার কাজ এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অঙ্গ। শিবপুর বোটানিক গার্ডেনের কাছে নাজিরগঞ্জে একটি বিশেষ ক্যানাল পাম্পিং স্টেশন গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে যে সমস্ত স্থানীয় জলাশয়গুলি ভরাট হয়ে জলধারণ ক্ষমতা হারিয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে সংস্কার করা হবে, যাতে ভারী বৃষ্টির জল সহজে সেখানে ধরে রাখা যায়।
পুর প্রশাসন মনে করছে, এই আধুনিক নিকাশি ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে বর্ষার দিনে হাওড়া ও বালির বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগের দিন শেষ হবে। প্রশাসনিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই প্রকল্পের মূল নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি পরবর্তী দুই বছর প্রকল্পটি পরিচালনার ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে।