“আম্পায়ার বানিয়ে ম্যাচ ফিক্সিং করানো হচ্ছে!” সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক রাহুল, চড়ল রাজনীতির পারদ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। কেরালায় এক প্রাক্তন আইএএস আধিকারিকের চাঞ্চল্যকর দাবির সূত্র ধরে মোদী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। উল্টোদিকে, নির্বাচন কমিশনের ওপর ওঠা সমস্ত অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও লজ্জাজনক’ বলে পাল্টা তোপ দেগেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

বিজেপির হয়ে রিক্রুটমেন্ট ও ‘ম্যাচ ফিক্সিং’-এর অভিযোগ: ঘটনার সূত্রপাত কেরালার প্রাক্তন মুখ্য সচিব জিজি থমসনের একটি বিস্ফোরক দাবিকে কেন্দ্র করে। ২০১৬ সালে আইএএস অফিসার হিসেবে কর্মরত থমসন জানান, সেই সময় প্রশাসনিক পদে থাকা জ্ঞানেশ কুমার তাঁকে বিজেপির টিকিটে নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এমনকি ভোটে জিতলে তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হয়েছিল বলে দাবি করেন থমসন।

এই প্রসঙ্গ টেনে সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ রাহুল গান্ধী লেখেন, “জ্ঞানেশ কুমার যখন আইএএস অফিসার ছিলেন, তখন তাঁকে বিজেপির কর্মী সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হতো। এরপর নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ তাঁকে আম্পায়ার বানিয়ে ভারতের নির্বাচনে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়িত্বে বসিয়েছেন।”

সিইসি-র পদত্যাগ ও আইনি সুরক্ষার বাতিলের দাবি প্রিয়াঙ্কার: কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদরাও এই ইস্যুতে সুর চড়িয়েছেন। তিনি ওয়ায়নাড থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি জানান। প্রিয়াঙ্কার অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনারদের জবাবদিহিতা থেকে আড়াল করতেই বিজেপি সরকার তাঁদের বিশেষ আইনি সুরক্ষা দিয়েছে। বিরোধী জোড় ‘ইন্ডিয়া’ সংস্থাসমূহের নিরপেক্ষতা রক্ষায় একযোগে সিইসি-র অপসারণ চায় বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

রাহুলকে ‘গুরুত্বহীন রাজনীতিবিদ’ বলে তোপ বিজেপির: কংগ্রেসের এই অভিযোগের পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ তথা প্রবীণ নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ। রাহুল গান্ধীর মন্তব্যকে ‘অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “একটি সংবাদপত্রের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বিরোধী দলগুলো নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।”

বিরোধীদলগুলিকে মাঠে নেমে রাজনীতি করার পরামর্শ দিয়ে রবি শঙ্কর প্রসাদ প্রশ্ন তোলেন, “হিমাচল প্রদেশ বা তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস জিতলে কি নির্বাচন কমিশন ভালো হয়ে যায়? তামিলনাড়ু বা বাংলায় কংগ্রেস কেন নিঃশেষ হয়ে গেল, তা কি রাহুল গান্ধী ভেবে দেখেছেন?” রাহুলকে কটাক্ষ করে প্রবীণ বিজেপি নেতা আরও বলেন, “রাহুল গান্ধী অত্যন্ত গুরুত্বহীন একজন রাজনীতিবিদ। নিজের ও দলের ক্রমাগত ব্যর্থতা ঢাকার জন্যই তিনি বারবার দেশের সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর আক্রমণ চালান।”

নির্বাচন কমিশন ইস্যুতে শাসক ও বিরোধী শিবিরের এই চরম কাদা ছোড়াছুড়িতে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।