চোখের পলকে রাস্তা হলো নদী! জলের তোড়ে ভেসে গেল গাড়ি, ভ্যালেন্সিয়ার আকস্মিক বন্যায় চরম আতঙ্ক

স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর এবং তার আশেপাশের অঞ্চলে প্রকৃতির এক ভয়াবহ রূপ দেখা গেল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া প্রবল বজ্রঝড় এবং আকস্মিক বন্যায় কার্যত থমকে গেছে জনজীবন। পূর্ব স্পেনের বিভিন্ন অংশে এবং কাতালোনিয়ায় এই তীব্র দুর্যোগ আছড়ে পড়ে।

বিশেষ করে ভ্যালেন্সিয়ার বেশ কিছু পৌরসভা এলাকায় মাত্র ৩০ মিনিটের ব্যবধানে ৭০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মোট বৃষ্টির পরিমাণ ১০০ লিটার প্রতি বর্গমিটার ছাড়িয়ে গেছে। l’Eliana এলাকায় প্রায় ১০৬ লিটার প্রতি বর্গমিটার এবং Torrent এলাকায় প্রায় ৯৫ থেকে ১০০ লিটার পর্যন্ত বৃষ্টির খবর মিলেছে। শহরের নিজস্ব বৃষ্টিমাপক যন্ত্রগুলোতে সর্বোচ্চ প্রায় ৮১.৫ লিটার প্রতি বর্গমিটার বৃষ্টির হিসাব পাওয়া গেছে।

এত অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টির কারণে শহরের নিকাশি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। কয়েক মিনিটের মধ্যে একাধিক প্রধান রাস্তা নদীর রূপ নেয়। বাড়িঘরের বেসমেন্ট ও গ্যারাজে জল ঢুকে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিপাকে পড়েন গাড়িচালকরা। আন্ডারপাস এবং টানেলগুলো জলে ডুবে যাওয়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

নিরাপত্তার স্বার্থে রাতভর মেট্রো ভ্যালেন্সিয়ার সমস্ত লাইন বন্ধ রাখা হয়। ম্যানিসেস বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। প্রায় ১২টি বিমানকে অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। তবে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালের দিকে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হলে রানওয়ে ফের চালু করা হয়। এর প্রভাব পড়ে খেলাধুলাতেও। লা লিগার লেভান্তে বনাম অ্যাথলেটিক বিলবাও ম্যাচটি জলমগ্নতার কারণে পিছিয়ে দিতে হয়। স্টেডিয়ামের মাঠ এবং খেলোয়াড়দের টানেলে জল ঢুকে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ করে টরেন্টের একটি ফাস্ট-ফুডের দোকান থেকে আটকে পড়া প্রায় ১৫ জনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যায়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বেশ কিছু এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালও কাজ করা বন্ধ করে দেয়। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের সেই ভয়াবহ ডানা বন্যার স্মৃতি টাটকা হয়ে ওঠে, যেখানে ভ্যালেন্সিয়ায় দুই শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এবারের ঝড়ে ভ্যালেন্সিয়া প্রদেশে কোনো প্রাণহানির খবর নেই। যদিও প্রতিবেশী কাতালোনিয়ায় বার্সেলোনার কাছে একটি খালে ভেসে গিয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন বিশেষ বন্যা পরিকল্পনার লেভেল ১ সক্রিয় করেছে। দমকল ও জরুরি পরিষেবা কর্মীরা রাতভর জল নিষ্কাশন, রাস্তা পরিষ্কার এবং জলবন্দি মানুষকে উদ্ধারের কাজে লড়াই চালিয়ে গেছেন। প্রশাসনের তরফ থেকে সাধারণ মানুষকে নিচু এলাকা, জল জমে থাকা রাস্তা এবং টানেলগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Aditi Banik
  • Aditi Banik