মাচা চা উৎপাদনে কে সেরা? চীন নাকি জাপান—অবাক করা তথ্য জানলে চমকে যাবেন!

বর্তমান সময়ে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে ‘মাচা চা’ বা মাচা গ্রিন টি-র জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। শুধু বিদেশেই নয়, এখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলেও এর চাষ ও ব্যবহার শুরু হয়েছে। কিন্তু এই সুস্বাদু এবং অত্যন্ত পুষ্টিকর পানীয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে একটি দীর্ঘদিনের কৌতূহল রয়েছে যে, চীন নাকি জাপান—ঠিক কোন দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মাচা চা সরবরাহ করে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে গুণমান এবং মোট উৎপাদন—এই দুইয়ের ফারাকটি পরিষ্কার হওয়া দরকার।
তাত্ত্বিক ও পরিসংখ্যানগত দিক থেকে বিচার করলে দেখা যায়, মোট উৎপাদনের দিক থেকে চীন বর্তমানে জাপানকে বহু পেছনে ফেলে অনেক এগিয়ে রয়েছে। গত কয়েক বছরে চীন তাদের মাচা উৎপাদন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি শিল্পায়িত করতে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করেছে। বিশেষ করে ঝেজিয়াং এবং গুইঝৌ-এর মতো বড় বড় প্রদেশে গড়ে উঠেছে বিশ্বের বৃহত্তম মাচা কারখানাগুলো। মূলত বেকারি এবং বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাদ্য শিল্পের কথা মাথায় রেখেই সেখানে প্রচুর পরিমাণে এবং অপেক্ষাকৃত কম খরচে মাচা উৎপাদিত হয়। অন্যদিকে, জাপানে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বেশ সীমিত এবং কৃষকদের বয়স বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট গণ্ডি রয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের জেরে জাপানে তেনচা উৎপাদন কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় সেখানে দামও অনেকটাই চড়েছে।
তবে উৎপাদনের অঙ্কে চীন এগিয়ে থাকলেও, গুণমান এবং ঐতিহ্যের দিক থেকে জাপানই এখনও পর্যন্ত অপ্রতিদ্বন্দ্বী। মাচা তৈরির পদ্ধতি সাধারণ সবুজ চায়ের চেয়ে অনেকটাই আলাদা ও জটিল। এর জন্য ‘তেনচা’ নামক বিশেষ পাতা ব্যবহার করা হয়, যা তোলার আগে গাছগুলো নির্দিষ্ট সময় ধরে ছায়ায় ঢেকে রাখা হয়। এরপর ভাপানো, শুকানো এবং ঐতিহ্যবাহী পাথরের মিলে অত্যন্ত ধীর ও শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়ায় এই পাতা গুঁড়ো করে প্রিমিয়াম বা ‘সেরিমোনিয়াল-গ্রেড’ মাচা তৈরি করা হয়। জাপানের আইচি, কাগোশিমা এবং কিয়োটোর মতো অঞ্চলের মাচা তাদের অনন্য স্বাদ ও উৎকৃষ্ট মানের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ফলে সংক্ষেপে বলতে গেলে, বাজারের চাহিদাপূরণে ও পরিমাণে চীন এগিয়ে থাকলেও প্রিমিয়াম মানের বিচারে জাপানের সুখ্যাতি এখনও অক্ষুণ্ণ রয়েছে।