কালীঘাটের বাড়িতে সিআইডির হানা! শালবনির জমি দুর্নীতি মামলায় সুমিত রায়কে নিয়ে বড় তল্লাশি

শালবনিতে সরকারি জমি দখল এবং তার মালিকানা বদল করতে জাল নথি তৈরির চাঞ্চল্যকর অভিযোগের তদন্তে আরও এক ধাপ এগোল সিআইডি। মঙ্গলবার এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সুমিত রায়কে সঙ্গে নিয়ে তাঁর কালীঘাটের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালান তদন্তকারীরা। গোয়েন্দাদের অনুমান, শালবনি জমি দুর্নীতি মামলার বহু গুরুত্বপূর্ণ নথি, পুরোনো ডিজিটাল ডিভাইস এবং গোপন তথ্য ওই বাড়িতে লুকিয়ে রয়েছে।

সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে সরকারি জমি বেআইনিভাবে দখলের ঘটনায় ইতিমধ্যেই বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, জমির মালিকানা বদলের জন্য শুধু জাল দলিলই তৈরি করা হয়নি, ব্যবহার করা হয়েছে নকল রাবার স্ট্যাম্পও। অর্থাৎ, জাল কাগজগুলোকে নিখুঁতভাবে আসল হিসেবে জাহির করার জন্য একটি সুসংগঠিত চক্র কাজ করেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।

সিআইডির নজরে পুরনো ফোন ও ডিজিটাল প্রমাণ

তদন্তে নেমে সিআইডি জানতে পেরেছে যে বর্তমান ফোনের পাশাপাশি অতীতে অন্য একটি ফোন ব্যবহার করতেন সুমিত রায়। সেই পুরোনো ফোনে থাকা নম্বর, কল রেকর্ড, চ্যাট ও ছবি মামলার কিনারা করতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। সেই ডিজিটাল প্রমাণ উদ্ধারের জন্যই মঙ্গলবার কালীঘাটের বাড়িতে এই অভিযান চালানো হয়। উল্লেখ্য, এই মামলায় সুমিত রায়কে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করে আটদিনের সিআইডি হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ভবানী ভবনে তাঁকে দফায় দফায় জেরা করে বাকি সহযোগীদের নাম বের করার চেষ্টা চলছে।

জালে সুজয় হাজরার ঘনিষ্ঠ তিন লিংকম্যান

অন্যদিকে, এই মেগা দুর্নীতি মামলায় মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরার তিন ঘনিষ্ঠ সহযোগীকেও গ্রেফতার করেছে সিআইডি। ধৃত ওই তিন লিংকম্যানের নাম—অমিত ঘোষ, নিত্যানন্দ রায় এবং লক্ষীকান্ত ভূঁইয়া। সরকারি জমি কেনাবেচা এবং দুর্নীতির কালো টাকা সঠিক স্থানে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্বে এরাই ছিল বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার তাঁদের মেদিনীপুর জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সুমিত রায়ের সঙ্গে তাঁদের ফের আদালতে তোলা হবে। সবমিলিয়ে, শালবনির এই জমি কেলেঙ্কারির শিকড় কত দূর বিস্তৃত, তা জানতে এখন জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখা।