স্কুলের দেওয়ালে হাত দিতেই ভয়াবহ বিপত্তি! ছিটকে পড়ল ৫ পড়ুয়া, মুহূর্তের উত্তেজনায় কাঁপল এলাকা

স্কুল শুরু হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এক মারাত্মক বিপত্তির সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জের যোগেশগঞ্জ হাইস্কুল। বিদ্যালয়ের একটি দেওয়াল আগে থেকেই শর্ট সার্কিট হয়ে বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুৎবাহী হয়ে ছিল। আর সেই অসাবধানতাবশত সেখানে হাত ছোঁয়াতেই বিদ্যুতের প্রবল ঝটকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে পাঁচজন পড়ুয়া। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গুরুতর অবস্থায় তিনজনকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতোই নির্দিষ্ট সময়ে পড়ুয়ারা স্কুলে উপস্থিত হয়েছিল। ক্লাস শুরুর ঠিক মুখে কয়েকজন শিক্ষার্থী ভবনের দেওয়ালের কাছে গেলে এই বিপত্তি ঘটে। দেওয়ালে হাত দেওয়া মাত্রই আচমকা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে তারা। ঘটনার ভয়াবহতা বর্ণনা করে এক প্রত্যক্ষ অভিভাবক শ্রীমতী মণ্ডল জানান, দেওয়ালে শর্ট সার্কিট থাকার কারণেই এই কাণ্ড ঘটেছে। নদীর দিক থেকে দৌড়ে এসে তিনি দেখেন পাঁচজন পড়ুয়াই অসুস্থ অবস্থায় ছটফট করছে।
চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে আহত পড়ুয়াদের উদ্ধার করেন। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তিনজনকে যোগেশগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট অবস্থায় তিনজন পড়ুয়াকে আনার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে এই দুর্ঘটনার জেরে স্কুলের বেহাল পরিকাঠামো এবং অব্যবস্থা নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, যোগেশগঞ্জ হাইস্কুলের বর্তমান পরিকাঠামো অত্যন্ত শোচনীয়। বিদ্যালয়ের নিজস্ব কোনও সীমানা প্রাচীর নেই, বিল্ডিংগুলোর বেহাল দশা এবং বৈদ্যুতিক তারের চরম অব্যবস্থার জন্যই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। অবিলম্বে স্কুলের সমস্ত পরিকাঠামো মেরামতির দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
খবর পেয়ে দ্রুত স্কুল চত্বরে পৌঁছয় হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ। বিদ্যুৎ বণ্টন দফতরের কর্মীদের ডেকে সঙ্গে সঙ্গে দেওয়ালটিকে শর্ট সার্কিট মুক্ত করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে ও স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও এই গুরুতর গাফিলতির অভিযোগ প্রসঙ্গে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখে স্কুলের বৈদ্যুতিক ত্রুটি দ্রুত মেরামতের জন্য প্রশাসন ও বিদ্যুৎ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র। পড়ুয়াদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।