খাস প্রধানমন্ত্রীর সংসদীয় এলাকায় বড়সড় নাশকতা! জেনেশুনে নিকাশি ব্যবস্থা পঙ্গু করার নেপথ্যে কে?

বেনারসের মতো পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ শহরে সুপরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক ব্যর্থতা প্রমাণের এক গভীর চক্রান্ত ফাঁস হলো। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সংসদীয় এলাকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে সিভার লাইন পরিষ্কার করার সময় মূল নিকাশি পাইপের ভেতর থেকে সিমেন্ট ও বালির বস্তা, কাঠের গুঁড়ো, ইট এবং প্লাস্টিক উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথম দর্শনেই স্পষ্ট যে, এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং ইচ্ছাকৃতভাবে নিকাশি ব্যবস্থা আটকে দেওয়ার এক ঘৃণ্য চক্রান্ত। উদ্দেশ্য ছিল একটাই—প্রধান সড়কে কৃত্রিম জলকষ্ট তৈরি করে তার সুযোগ নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর রাজনৈতিক ন্যারেটিভ দাঁড় করানো।
ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব বারাণসীর জলমগ্ন রাস্তার একটি ভিনদেশি পর্যটকদের ভিডিও শেয়ার করে রাজ্য সরকারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন। কিন্তু সিভার লাইন জাম করার এই চাঞ্চল্যকর ও অপরাধমূলক সত্য প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা সম্পূর্ণ নীরব। অন্যদিকে, বারাণসীর মেয়র সমস্ত প্রমাণ সহ সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছেন এবং এই ঘটনায় এফআইআর (FIR) দায়ের করেছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিরোধীদের এই অপপ্রচার এখন বড়সড় প্রশ্নচিহ্নের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
পুরো ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের একটি প্রেস কনফারেন্সকে কেন্দ্র করে আরও একটি বড় নাটক সামনে এসেছে। প্রেস মিটিং শেষ হওয়ার পর যখন মুখ্যমন্ত্রী ও সাংবাদিকরা প্রস্থান করছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ভিড়ের মধ্যে থেকে এক অজানা তরুণী হঠাৎ করেই হইচই শুরু করে দেন। তাঁর মুখের চতুর হাসি এবং মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া দেখে পরিষ্কার যে, এটি কোনো সাধারণ ঘটনা ছিল না। কোনো রকম যাচাই বা সাংবাদিকীয় নীতি না মেনে সরকারবিরোধী একটি নির্দিষ্ট ইউটিউব চ্যানেল ও কিছু রাজনৈতিক হ্যান্ডেল এই ভিডিওটিকে হাতিয়ার করে প্রোপাগান্ডা ছড়াতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিককালে এই ধরনের ঘটনাগুলি কোনো সাধারণ কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যোগী সরকারকে হেনস্থা করার একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক চক্রান্ত। তুচ্ছ বা মনগড়া ঘটনাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃত্রিম উপায়ে ভাইরাল করে জনমানসে বিভ্রান্তি তৈরি করাই এর মূল লক্ষ্য। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি যখন নীতিগত ইস্যুতে কোণঠাসা হয়ে পড়ে, তখন এ ধরনের সস্তা কায়দা ও কুৎসার আশ্রয় নেয়। গণতন্ত্রে সুস্থ বিরোধিতা এবং অন্ধ প্রচারের মধ্যে বিস্তর তফাত থাকা প্রয়োজন, যা আজ রাজনৈতিক স্বার্থে লঙ্ঘিত হচ্ছে।