মুম্বইয়ের পথে মনোজ জারাঙ্গে! অনুমতি মেলেনি, তবুও অনড় থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঙ্কার

মুম্বইয়ে আন্দোলন করার পুলিশি অনুমতি না মিললেও নিজের দাবিতে অনড় থেকে অনশনরত মারাঠা সংরক্ষণকর্মী মনোজ জারাঙ্গে মঙ্গলবার সকালে জালনা জেলার অন্তরওয়ালি সারাটি গ্রাম থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিলেন। কুনবি জাতির বংশতালিকাভুক্ত মারাঠা সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি) বা ওবিসি কোটায় সংরক্ষণের দাবিতে গত ১৭ দিন ধরে তিনি আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। আসন্ন গণেশ উৎসবের কথা মাথায় রেখে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মুম্বই পুলিশ তাঁকে আজাদ ময়দানে জমায়েত বা বিক্ষোভ প্রদর্শনের অনুমতি দিতে অস্বীকার করে। তবে সমস্ত বাধা বিপত্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জারাঙ্গে তাঁর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি থেকে পিছু হটেননি।
পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে জারাঙ্গে মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মারাঠা সম্প্রদায়ের ভিড় জমানোর আগের পরিকল্পনা বদলে ফেলেছেন। এখন তিনি অত্যন্ত কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মাত্র পাঁচ থেকে দশজন ঘনিষ্ঠ সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত ছোট একটি কনভয়ে মুম্বইয়ের দিকে এগোচ্ছেন। শারীরিক দুর্বলতা স্পষ্ট হলেও নিজের চেনা ছন্দে সাদা শার্ট ও পায়জামা পরে তিনি একটি গাড়ির সামনের আসনেই বসে রয়েছেন। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জারাঙ্গে দাবি করেন, হাইকোর্টের রায় তাঁর পক্ষেই রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে আমার সম্প্রদায়ের স্বার্থই সর্বস্ব। সম্প্রদায়ের অধিকার আদায়ের জন্য আমি প্রয়োজনে প্রাণ বিসর্জন দেব, তবুও পিছু হটব না।’’
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেভেন্দ্র ফড়নবীসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে জারাঙ্গে বলেন, ‘‘ফড়নবীস কি আমাকে গুলি করে মারতে চান? আমি তো একদম একা আসছি। আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু যতই চেষ্টা করা হোক না কেন, আমি মারাঠাদের সঙ্গে বিন্দুমাত্র বিশ্বাসঘাতকতা করব না।’’ অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ফড়নবীস ও অন্যান্য মন্ত্রীরা জারাঙ্গেকে বারবার অনশন প্রত্যাহার করার অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন যে সরকার যেকোনো বিষয়ে আলোচনা করতে এবং আইনগতভাবে বৈধ দাবিগুলো মেনে নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
নির্ধারিত রুট অনুযায়ী জারাঙ্গের এই ছোট কনভয়টি বীডের পাটোদা, অহি্লানগরের শ্রীগোন্দা, পুণের হাড়পসার এবং রায়গড় জেলার খোপোলি হয়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক আজাদ ময়দানে এসে পৌঁছাবে। যাত্রার শুরুতে স্থানীয় চিকিৎসকরা তাঁর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। এরপর তিনি ছত্রপতি শিবাজী মহারাজকে প্রণাম জানিয়ে গ্রামের দুটি মন্দিরে পুজো দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। অন্তরওয়ালি সারাটি থেকে শাহগড় পর্যন্ত পুরো রাস্তাটি কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জারাঙ্গের যাত্রাপথে তিন জন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার, ১০ জন ইন্সপেক্টর, ৩০ জন সাব-ইন্সপেক্টর, ৩০০ জন পুলিশ জওয়ান এবং ২৬৫ জন হোমগার্ড সহ বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। জারাঙ্গের গাড়িবহরে দুটি এসইউভি এবং দুটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। এছাড়া জালনা পুলিশ ও ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বিশেষ সুরক্ষা ইউনিট (SPU)-এর সশস্ত্র দেহরক্ষীরা তাঁর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করছেন।