ত্বিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় বড় মোড়! জবলপুর হাইকোর্টে আটকে গেল শাশুড়ির জামিন

অভিনেত্রী ও মডেল ত্বিশা শর্মা মৃত্যু মামলায় আজ, মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর মামলায় কারাবন্দি থাকা শাশুড়ি গিরিবালা সিংয়ের জামিনের আবেদন গত তিন সপ্তাহ ধরে বিচারাধীন রয়েছে। এদিন জবলপুর হাইকোর্টে গিরিবালার আইনজীবীদের সওয়াল-জবাব শোনার পর, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে আরও এক সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করে। ফলে আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির দিন আগামী সপ্তাহে ধার্য করেছে। নিজের বয়স এবং বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেই গিরিবালা এই জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক আইনি বাধার মুখে পড়েছিলেন অভিযুক্ত গিরিবালা সিং। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভোপালের একটি বিশেষ আদালত তাঁর জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছিল। সে সময় আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল যে, এই মামলার অভিযোগগুলি অত্যন্ত গুরুতর। উভয় পক্ষের দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শোনার পর আদালত ২৪ জুলাই নিজেদের রায় সংরক্ষিত রেখেছিল। কারাগারে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব এবং বয়সের কথা বলে মুক্তির আর্জি জানালেও বিচারক তা মানেননি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ মে মডেল ও অভিনেত্রী ত্বিশা শর্মাকে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে রহস্যজনকভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। এর পরেই যৌতুক হয়রানি, মানসিক নির্যাতন এবং গারহস্থ্য সহিংসতার অভিযোগে গিরিবালা সিং ও তাঁর ছেলে সমর্থ সিংকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে জামিনের আবেদনটি বিশেষ বিচারক নীলম শুক্লার আদালতে উঠলেও তিনি মামলাটি শোনা থেকে নিজেকে বিরত রাখেন। পরবর্তী সময়ে মামলাটি স্থানান্তরিত হয় বিশেষ বিচারক রাম প্রতাপ মিশ্রের আদালতে, যেখানে বিস্তারিত শুনানি সম্পন্ন হয়।

শুনানি চলাকালীন গিরিবালার আইনজীবীরা আদালতকে জানান যে, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। পাশাপাশি, তিনি নিয়মিত যুদ্ধবিধবা পেনশন পান এবং তাঁর অবর্তমানে বাড়িতে চুরিও হয়েছিল, যা যৌতুক নেওয়ার অভিযোগকে ভিত্তিহীন করে তোলে। তবে সিবিআই এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আদালতকে জানায় যে, শুধুমাত্র একজন নারী হওয়ার কারণে জামিন মঞ্জুর করা যায় না, বিশেষ করে যেখানে মৃত ব্যক্তিও একজন নারী ছিলেন।

তদন্তকারী সংস্থা আরও জোরালো সওয়াল করে জানায় যে, গত ২৭ মে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট ভোপালের নিম্ন আদালত কর্তৃক গিরিবালাকে দেওয়া আগাম জামিন আগেই বাতিল করে দিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তদন্ত চলাকালীন তিনি কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতেও অস্বীকার করেন। সিবিআইয়ের আশঙ্কা, অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত হলে মামলার সিসিটিভি টেকনিশিয়ান ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করতে পারেন এবং প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা চালাতে পারেন। সব পক্ষের যুক্তি বিবেচনা করে আদালত আগামী সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করেছে।