পৃথিবীর চোখে অদৃশ্য চাঁদের মাটি তুলে দিল চীন! জাতিসংঘের হাতে ঐতিহাসিক উপহার

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করল চীন। প্রথমবারের মতো চাঁদের অন্ধকার দিক বা পৃথিবী থেকে অদৃশ্য অংশ থেকে সংগৃহীত মাটি ও পাথরের অমূল্য নমুনা জাতিসংঘের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শি জিনপিংয়ের দেশ। চীনের সফল ‘চ্যাং’ই-৬’ অভিযানের মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরু অঞ্চলের এই রহস্যময় নমুনা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান মহলে চরম আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
সোমবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অবস্থিত রাষ্ট্রসংঘের কার্যালয়ে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নমুনাগুলি প্রকাশ্যে আনা হয়। এখন থেকে এই ঐতিহাসিক নমুনাগুলি জাতিসংঘের কার্যালয়েই স্থায়ীভাবে প্রদর্শনীর জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চীন এবং রাষ্ট্রসংঘের একাধিক শীর্ষস্থানীয় পদাধিকারী ও কূটনীতিবিদ। চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের শীর্ষ কর্মকর্তা শান ঝংদে এই উপলক্ষে জানান যে, মহাকাশ অভিযান কোনো একক দেশের নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির এক অভিন্ন স্বপ্ন। তাঁর মতে, চ্যাং’ই মিশন কেবল চীনের মুকুটে নতুন নয়, বরং এটি গোটা পৃথিবীর বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির এক ঐতিহাসিক স্মারক।
বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, চীন হঠাৎ কেন জাতিসংঘের হাতে চাঁদের এই অমূল্য সম্পদ তুলে দিল? ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মঞ্চে মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার এবং বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক সহযোগিতার প্রতি নিজের সুদৃঢ় অঙ্গীকার প্রমাণ করতেই বেজিং এই মাস্টারস্ট্রোক দিয়েছে। জাতিসংঘের অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা গাদা ওয়ালিও চীনের এই কূটনৈতিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে এটিকে মানবজাতির প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ এবং মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচনের বড় প্রতীক বলে অভিহিত করেছেন। পাশাপাশি, জাতিসংঘের মহাকাশ বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক আরতি হোলা-মেইনি মনে করেন, এই মহৎ উদ্যোগ মহাকাশকে সমগ্র মানবজাতির যৌথ ঐতিহ্য ও দায়িত্ব হিসেবে দেখার মানসিকতাকে আরও বেশি মজবুত করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়া চ্যাং’ই-৬ মিশন চাঁদের দক্ষিণ মেরু-আইটকেন বেসিন থেকে প্রায় ১,৯৩৫.৩ গ্রাম মূল্যবান নমুনা সফলভাবে সংগ্রহ করেছিল। চাঁদ থেকে প্রায় তিন লক্ষ আশি হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে এই উপাদানগুলি পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের এই দূরবর্তী অংশটি চিরকালই পৃথিবীর বিপরীত দিকে মুখ করে থাকে, তাই সেখানকার ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং প্রাথমিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণার সুযোগ এতদিন ছিল অত্যন্ত সীমিত। এই নমুনাগুলি হাতে আসায় চাঁদের জন্মরহস্য এবং অভ্যন্তরীণ গঠন সম্পর্কে যুগান্তকারী তথ্য আবিষ্কার করতে পারবেন গবেষকরা। বৈজ্ঞানিক সাফল্যের পাশাপাশি মহাকাশ কূটনীতির নিরিখেও চীনের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে এক গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।