UCC নিয়ে এনডিএ-তে কি বড় ফাটল? অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল!

সসমান নাগরিক কোড বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে ফের পারদ চড়তে শুরু করেছে। জনতা দল ইউনাইটেড বা জেডিইউ-এর কার্যকারী জাতীয় সভাপতি সঞ্জয় কুমার ঝা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, তাঁদের দলের শীর্ষ নেতারা খুব শীঘ্রই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ইউসিসি প্রসঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করবেন। আর এই ঘোষণার পরই এনডিএ (NDA) জোটের অন্দরে রাজনৈতিক সমীকরণ ও মতপার্থক্য নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বিজেপি যখন দেশজুড়ে ইউসিসি রূপায়ণকে তাদের অন্যতম প্রধান মতাদর্শগত লক্ষ্য বলে ঘোষণা করেছে, তখন জেডিইউ-এর এই অবস্থান বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিহার ও কেন্দ্রের শাসক জোটে প্রধান শরিক হওয়া সত্ত্বেও জেডিইউ, এলজেপি বা অন্যান্য সহযোগীরা সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক নিজেদের অনুকূলে রাখতে এই ধরনের স্পর্শকাতর ইস্যুতে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখতে চায়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কিশনগঞ্জ, পূর্ণিয়া ও কাটিহারের মতো সংখ্যালঘু-প্রধান আসনগুলিতে জেডিইউ-কে পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়েছিল। ফলে ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনকে মাথায় রেখে দল এখন এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল গ্রহণ করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজেপির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবীণ নেতার মতে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক সময় কৌশলগত দূরত্ব বজায় রেখে দলগুলি নিজেদের ভোটব্যাংক সুরক্ষিত করে। জেডিইউ যদি ইউসিসি-র বিরোধিতার মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের আস্থার বার্তা দেয়, তবে তাতে একদিকে যেমন তাদের নিজস্ব ভোট সুরক্ষিত হবে, তেমনই অন্যদিকে সংখ্যাগুরু ভোটারদের একাংশের মেরুকরণের ক্ষেত্রেও বিজেপি বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে পারে। সব মিলিয়ে, এনডিএ জোটের অন্দরে এই সুচিন্তিত কৌশল আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতির সমীকরণকে কীভাবে প্রভাবিত করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।