“আপনারা কি বাড়িতে চিতাবাঘ পুষেছেন?” কার্তিক সত্যনারায়ণের আগাম জামিন মামলার শুনানিতে বিস্ফোরক প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির

মধ্যপ্রদেশে বহুল আলোচিত একটি চিতাবাঘ শিকার এবং বন্যপ্রাণীর চামড়া পাচার মামলার তদন্ত সংক্রান্ত আইনি জটিলতা ঘিরে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর বিশিষ্ট সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কার্তিক সত্যনারায়ণের দায়ের করা আগাম জামিনের আবেদনের জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত শুনানি করতে অবশেষে রাজি হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্ট। মূলত মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের একটি সাম্প্রতিক ও অত্যন্ত কড়া নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই এই আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। এর আগে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট তদন্তে কথিত অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে কার্তিক সত্যনারায়ণকে ইতিপূর্বে দেওয়া সমস্ত অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা একযোগে প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এমনকি তাঁকে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর রাজ্যের বিশেষ টাইগার স্ট্রাইক ফোর্সের (এমপিটিএসএফ) তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সামনে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
মূল ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছিল যখন উত্তরপ্রদেশের আগ্রা এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি চিতাবাঘের চামড়া সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টে কার্তিকের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভে আদালতকে জানান যে, আবেদনকারীরা নিজেরাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ওই চিতাবাঘের চামড়াগুলো উদ্ধারের ক্ষেত্রে তদন্তে সহায়তা করেছিলেন এবং তাঁরা এখনও আইনগত তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। তবে তাঁদের মূল দাবি হলো, জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে যেন তাঁদের অবিলম্বে গ্রেফতারি থেকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা হয়। এই বিশেষ মামলার গুরুত্ব বিচার করে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বিশেষ বেঞ্চ চলতি সপ্তাহেই বিষয়টি আদালতের কার্যতালিকাভুক্ত করতে সম্মত হয়েছে।
শুনানির প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত কৌতুহলী হয়ে আইনজীবী সিদ্ধার্থ দাভেকে সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনারা কি বাড়িতে কোনো চিতাবাঘ পুষে রেখেছিলেন?” এর জবাবে প্রবীণ আইনজীবী আদালতকে স্পষ্ট ভাষায় জানান, “না, আমরা বাড়িতে কোনো বন্যপ্রাণী রাখি না। আমরা একটি প্রতিষ্ঠিত নিবন্ধিত এনজিওর সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের উদ্যোগেই আগ্রা থেকে ওই চামড়াটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, রাজ্য সরকার এখন বিনা কারণে আমাদের এই অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে দিচ্ছে।” আইনজীবী আরও জানান যে মূল বাজেয়াপ্তকরণের ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের সীমানার মধ্যে ঘটলেও পরবর্তী সময়ে মামলাটি জোরপূর্বক মধ্যপ্রদেশে স্থানান্তরিত করা হয়। তিনি আর্জি জানান যে, একটি নির্দিষ্ট মামলায় আইনি সুরক্ষা নিয়ে হাজির হওয়ার কোনো অর্থ হয় না যদি অন্য কোনো মামলায় গ্রেফতার হয়ে যাওয়ার স্থায়ী ঝুঁকি থেকেই যায়।
তদন্তকারী সূত্রের খবর অনুযায়ী, গোটা ঘটনাটি মূলত একটি বিশাল আন্তর্জাতিক চিতাবাঘের অবৈধ শিকার এবং চামড়া পাচার চক্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চলতি বছরের শুরুর দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সর্বসমক্ষে আসে, যখন বন্যপ্রাণী সুরক্ষার মুখোশ পরা একটি সুপরিচিত সংস্থার বিরুদ্ধে পাচারকারীদের সঙ্গে গোপন আঁতাত ও যোগসাজশের জোরালো সন্দেহ দানা বাঁধে। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্পেশাল টাস্কফোর্স উত্তর প্রদেশ ও মধ্যপ্রদেশের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে একাধিক পাচারকারীকে পাকড়াও করে এবং তাদের কাছ থেকে মোট ১০টি চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায় যে এই সমস্ত বন্যপ্রাণীগুলোকে মূলত মধ্যপ্রদেশের গভীর জঙ্গল থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এরপরই ঘটনার তদন্তে নামে মধ্যপ্রদেশের একটি বিশেষ দল। মামলাটি এক অন্য মোড় নেয় যখন দিল্লিভিত্তিক বিখ্যাত সংরক্ষণ সংস্থা ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর নাম এই চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, কারণ ধৃতদের অনেকেই এই সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। যদিও ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস শুরু থেকেই সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এখন সমস্ত আইনি নজর সুপ্রিম কোর্টের আসন্ন রায়ের দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে।