কোটিপতি ব্যবসায়ী খুন! ‘কীভাবে খুন করলে মনে হবে হার্ট অ্যাটাক?’ গুগলে সার্চ করে ফাঁসল খোদ পুত্রবধূ!

কানপুরের কোটিপতি ওষুধ ব্যবসায়ী বিনীত মিনোচা হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ এমন কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে, যা শুনলে গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে। কল্যাণপুর থানা এলাকায় সংঘটিত এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত দুই গৃহভৃত্য এবং মৃত ব্যবসায়ীর পুত্রবধূ শ্যালু মিনোচাকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শ্যালুর মোবাইল ফোনের ইতিহাস ঘেঁটে এবং চ্যাট খতিয়ে দেখে এক রোমহর্ষক ষড়যন্ত্রের পর্দাফাঁস হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগেই শ্যালু নিজের মোবাইল ফোনের গুগল সার্চ বারে গিয়ে বারবার খোঁজার চেষ্টা করেছিল—‘কীভাবে খুন করলে তা আত্মহত্যা বা স্বাভাবিক হার্ট অ্যাটাক বলে মনে হবে?’ পুলিশের হাতে আসা এই সার্চ হিস্ট্রি এবং গোপন চ্যাটগুলিই এখন এই মামলার সবচেয়ে বড় মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এবং অকাট্য প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলেকট্রনিক ডেটা প্রমাণের ভিত্তিতে মামলাটিকে আরও পোক্ত করতে চাইছে পুলিশ।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, শ্যালু তার বাড়ির এক পুরনো বিশ্বস্ত চাকরকে এই নৃশংস কাজটি সম্পন্ন করার জন্য লক্ষাধিক টাকার মোটা অঙ্কের লোভ দেখিয়েছিল। পরিকল্পনা ছিল এমন নিখুঁত হবে যে কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পাবে না। তবে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয় যখন মূল অভিযুক্ত বিশাল ও তার সঙ্গীরা বিনীতের ঘরে হামলা চালায়। কিন্তু বিনীত তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলায় আক্রমণকারীরা দিশাহারা হয়ে তাঁর উপর চড়াও হয় এবং বেধড়ক মারধরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যবসায়ীর।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভ। মৃত বিনীত মিনোচা তাঁর পুত্রবধূ শ্যালুর অতিরিক্ত খরচ এবং জীবনযাত্রার ওপর কড়া নজরদারি চালাতেন। এমনকি তাঁর বেশ কিছু খরচে ঘোর আপত্তিও জানিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, পুত্রবধূর গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ বাড়ায় তিনি নিজের ফ্ল্যাটের অন্দরে একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা পর্যন্ত বসিয়েছিলেন। এই নজরদারি এবং সিসিটিভির কড়াকড়ির জন্যই শ্যালু মনে মনে শ্বশুরমশাইয়ের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
পুলিশ জানতে পেরেছে, যেদিন এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে, সেই রাতেই অভিযুক্ত পুত্রবধূ ও তাঁর স্বামী নিজের বাড়িতে এক জমজমাট পার্টির আয়োজন করেছিলেন। গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে মদ্যপান ও উদ্দাম নাচানাচি চলে এবং তাঁরা রাত প্রায় তিনটে নাগাদ বাড়ি ফেরেন। এর পরেই প্রকাশ্যে আসে এই ব্যবসায়ী খুনের ঘটনা।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অন্ধ হত্যাকাণ্ডের কিনারা করে চমক সৃষ্টি করেছে কানপুর পুলিশ। যদিও শ্যালুর আইনজীবী শিবাকান্ত দীক্ষিত পুলিশের এই তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন, তবুও পুলিশের দাবি যে সমস্ত ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল প্রমাণ মিলেছে, তা খুব শীঘ্রই আদালতে পেশ করা হবে।