বাঁকা চাঁদের গায়ে জ্বলছে উজ্জ্বল হিরে! ডুয়ার্সের আকাশে এই দৃশ্য দেখেছেন কি?

সোমবার সন্ধ্যায় মালবাজার-সহ ডুয়ার্সের বিস্তীর্ণ আকাশজুড়ে এক অপূর্ব এবং মনোমুগ্ধকর মহাজাগতিক দৃশ্য দেখতে পেলেন সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যার আকাশে উঁকি দেওয়া সরু বাঁকা চাঁদের ঠিক উপরে একটি অত্যন্ত উজ্জ্বল আলোকবিন্দু জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। দূর থেকে দেখলে মনে হচ্ছিল, যেন ওই বাঁকা চাঁদের গায়ে কেউ বসিয়ে দিয়েছে কোনো এক চকচকে উজ্জ্বল মণি। এই দুর্লভ দৃশ্য উপভোগ করতে মুহূর্তের জন্য থমকে যান পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে আকাশপ্রেমীরা। মালবাজারের তরুণ বাসিন্দা অনিল শাহ নিজের মোবাইল ফোনের ক্যামেরায় এই মুহূর্তটি বন্দি করতে করতে অবাক হয়ে জানান যে এমন অভিনব অভিজ্ঞতা তাঁর আগে কখনো হয়নি।

শুধু মালবাজার বা ডুয়ার্স নয়, ভারতের অন্যান্য প্রান্ত থেকেও বহু মানুষ খালি চোখে এই চমৎকার দৃশ্য উপভোগ করেছেন। তবে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে চাঁদের পাশে জ্বলে থাকা ওই আলোকবিন্দুটি আদতে কোনো নক্ষত্র নয়, বরং আমাদের সৌরমণ্ডলের দ্বিতীয় গ্রহ শুক্র। সূর্যের তীব্র আলো প্রতিফলিত হওয়ার কারণে পৃথিবী থেকে শুক্র গ্রহকে অত্যন্ত উজ্জ্বল দেখায়। আকাশে চাঁদের ঠিক কাছাকাছি এই গ্রহের অবস্থানই এক অসাধারণ দৃশ্যের অবতারণা করেছিল।

বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদ ও শুক্রের এই ধরনের নৈকট্যকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের পরিভাষায় চন্দ্র-শুক্র সংযোগ বা মুন-ভেনাস কনজাংশন বলা হয়। এই বিরল মহাজাগতিক মুহূর্তটি স্বভাবতই প্রকৃতিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা তৈরি করেছে। তবে মহাকাশ গবেষকদের মতে, এই ঘটনাটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়মে খুব একটা অস্বাভাবিক বা অনন্য নয়।

এই প্রসঙ্গে অ্যাসট্রোফিজিক্সের গবেষক সাগর দে ব্যাখ্যা করে জানান যে, এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনা আসলে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসেই একবার করে ঘটে থাকে। কিন্তু চাঁদের নির্দিষ্ট অবস্থান, বায়ুমণ্ডলে আলোর বিচ্ছুরণ, মেঘের উপস্থিতি এবং দৃশ্যমানতার মতো নানা অনুকূল ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে এই দৃশ্য সবসময় মানুষের খালি চোখে ধরা পড়ে না। খালি চোখে দেখলে আপাতভাবে মনে হতে পারে যে চাঁদকে স্পর্শ করে রয়েছে শুক্র। কিন্তু বাস্তবে চাঁদ এবং শুক্রের মধ্যে দূরত্ব কয়েক কোটি কিলোমিটার। মূলত একই সরলরেখায় আপেক্ষিক অবস্থানের জন্যই এই দৃশ্য আমরা দেখতে পাই। এর সঙ্গে কোনো ধরনের কুসংস্কার বা ভাগ্যচক্রের কোনো যোগ নেই বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

কারণ যাই হোক না কেন, ডুয়ার্সের নির্মল ও পরিষ্কার সন্ধ্যায় চাঁদের পাশে শুক্রের এই উজ্জ্বল উপস্থিতি সন্ধ্যার আকাশকে কয়েক মুহূর্তের জন্য এক জাদুকরি রূপ দিয়েছিল। আর এই বিরল মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে সাধারণ মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল ছাদ এবং খোলা মাঠগুলিতে।