স্ত্রীর কাটা মাথা ফ্রিজে ঢোকানো সেই রামানুজের ভয়ংকর পরিণতি! পুলিশের গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে শেষ?

নিজের হাতে স্ত্রীর মাথা কেটে আটকে রেখেছিল ফ্রিজে, বিচ্ছিন্ন করেছিল আঙুলও। গুয়াহাটির সেই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত রামানুজ গোস্বামীর পরিণতি হলো অত্যন্ত নাটকীয় ও ভয়ংকর। শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে থানায় ফেরার পথে পুলিশের চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ হারাল এই অভিযুক্ত ক্যাব চালক।
পুলিশ সূত্রের খবর, সোমবার রামানুজের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল শারীরিক পরীক্ষার জন্য। সেখান থেকে হাতিগাঁও থানায় ফিরিয়ে আনার পথে নারাকসুর পাহাড় এলাকায় আচমকাই পুলিশের ওপর চড়াও হয় রামানুজ। এর পরেই চলন্ত গাড়ি থেকে বাইরে লাফ দেয় সে। রাস্তার পাশের গভীর খাদে গিয়ে পড়ায় মাথায় মারাত্মক আঘাত পায় অভিযুক্ত। দ্রুত উদ্ধার করে তাকে পুনরায় গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফ্রিজে পলিথিনে মোড়ানো কাটা মাথা ঘটনার সূত্রপাত গত ৩ সেপ্টেম্বর। গুয়াহাটি শহরের বেলতলা এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় রামানুজের স্ত্রী রিয়া তালুকদারের ক্ষতবিক্ষত দেহ। ফ্ল্যাট থেকে পচা দুর্গন্ধ পেয়ে প্রতিবেশীরা খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে। তদন্তে নেমে আধিকারিকদের চোখ কপালে ওঠে— দেখা যায়, তরুণীর ধড় পড়ে রয়েছে মেঝেব্যাপী, আর ফ্রিজ খুলতেই পলিথিন ব্যাগে মোড়ানো উদ্ধার হয় তাঁর কাটা মাথা ও হাতের বিচ্ছিন্ন আঙুল। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর বিয়ে হয়েছিল রামানুজ ও রিয়ার। পুলিশের দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহের বশেই স্ত্রীকে নৃসংভাবে খুন করে ফ্ল্যাটে তালা মেরে চম্পট দিয়েছিল সে।
অনুশোচনা না অন্য কিছু? হত্যাকাণ্ডের পর গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে নিজেই পুলিশের কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে রামানুজ। শুরুতে নিজের করা নারকীয় অপরাধের জন্য কোনোরকম অনুশোচনা না দেখালেও, পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে সুর নরম করে সে। রামানুজকে বলতে শোনা যায়, “আমার মতো এই ভুল যেন আর কেউ না করে।”
সোমবার তাকে পুনরায় আদালতে পেশ করার কথা ছিল। তবে তার আগেই পুলিশের গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়ে রহস্যজনকভাবে শেষ হলো গুয়াহাটির এই হাড়হিম করা ঘটনার প্রধান চরিত্র।