কাজের চাপে রোজ বাড়ছে দুশ্চিন্তা? নীরব ঘাতক ‘স্ট্রেস হরমোন’ ডেকে আনছে ভয়ংকর বিপদ!

আজকের প্রতিযোগিতামূলক ও যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় কাজের চাপ, টার্গেট পূরণ এবং ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা যেন প্রতিটি মানুষের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অফিস বা কাজের ইঁদুরদৌড়ে অভ্যস্ত মানুষগুলো অজান্তেই এমন এক অদৃশ্য বিপদের মুখোমুখি হচ্ছেন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’ বা স্ট্রেস হরমোন। যখন আমরা অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মধ্যে থাকি, তখন আমাদের শরীর একটি বিশেষ হরমোন নিঃসরণ করে, যার নাম কর্টিসল (Cortisol)। এই কর্টিসল হরমোন সাময়িকভাবে আমাদের চাপের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলে তা পুরো শরীরকে ভেতর থেকে ফাঁকা ও দুর্বল করে দেয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের উচ্চ মাত্রা বজায় থাকলে তা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং ওজন বৃদ্ধির মতো মারাত্মক সব জটিল রোগ ডেকে আনে। শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও এর কুপ্রভাব পড়ে মারাত্মকভাবে। এর ফলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, প্যানিক অ্যাটাক, তীব্র মাইগ্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা বা ইনসোমনিয়ার মতো সমস্যা জাঁকিয়ে বসে। মানুষ যখন কাজের চাপে ভুগে মনে করেন এটি সাধারণ ক্লান্তি, তখন আসলে ভেতরে ভেতরে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
এই ভয়ংকর নীরব ঘাতকের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জীবনযাত্রায় কিছু সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ধ্যান বা ডিপ ব্রিদিং এক্সারসাইজ করলে কর্টিসল হরমোনের ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম, স্বাস্থ্যকর সুষম খাবার এবং কাজের ফাঁকে ছোট্ট বিরতি নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে জাদুর মতো কাজ করে। তাই কাজের ব্যস্ততার মাঝেও নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নশীল হওয়াই এই মারণ বিপদ থেকে বাঁচার একমাত্র চাবিকাঠি।