হাওড়া স্টেশনে এসক্যালেটর, শপিং মল ও মেগা স্কাইওয়াক! বদলে যাচ্ছে ১৭০ বছরের পুরনো চেনা ছবি

দেশের অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী পরিবহন কেন্দ্র হাওড়া স্টেশন চত্বর এবার সম্পূর্ণ নতুন রূপে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। ১৭০ বছরেরও বেশি পুরনো এই চত্বরে থাকা প্রাচীন সাবওয়ে থেকে শুরু করে বাস টার্মিনাস—পুরো চত্বরের পরিকাঠামো বদলে ফেলার এক মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য প্রশাসন। নতুন এই উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা শুধু ঝকঝকে পরিবেশই পাবেন না, বরং মেট্রো স্টেশনের আদলে সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধাও উপভোগ করতে পারবেন।
প্রতিদিন হাজার হাজার দূরপাল্লার যাত্রী, নিত্যযাত্রী এবং মেট্রো ব্যবহারকারী হাওড়া স্টেশনের ওপর নির্ভর করেন। তবে বর্ষার মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই স্টেশন সংলগ্ন প্রধান সাবওয়েগুলিতে জল জমে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। এবার সেই সমস্যার চিরতরে অবসান ঘটাতে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর এবং পূর্ব রেল যৌথভাবে এই আধুনিকীকরণের নকশা তৈরি করেছে।
২৫ কোটিতে তৈরি হচ্ছে ‘স্মার্ট’ সাবওয়ে
প্রশাসন সূত্রে খবর, হাওড়া স্টেশনের মেইন সাবওয়ে এবং হাওড়া ফেরিঘাট সাবওয়ের আধুনিকীকরণে প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, সাবওয়েগুলির আধুনিকীকরণ ছাড়া হাওড়া স্টেশন চত্বরকে সম্পূর্ণ বিশ্বমানের করে তোলা অসম্ভব। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই সাবওয়েগুলিকে আধুনিক মেট্রো স্টেশনের আদলে সাজানো হবে। সেখানে সেন্ট্রাল এসি, এস্কালেটর, পরিচ্ছন্ন আলোকসজ্জা এবং উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা যুক্ত থাকবে, যাতে বৃষ্টির সময় জল জমার কোনো সুযোগ না থাকে।
বাস টার্মিনাসের মাথায় বহুতল মল ও মাল্টিপ্লেক্স
শুধু যাত্রী চলাচলের পথ নয়, হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বর্তমান বাস টার্মিনাসটিকেও এক বিশাল বহুমুখী ইকোসিষ্টেমে রূপান্তরিত করার ছক কষা হয়েছে। প্রস্তাবিত ১২ তলা কমপ্লেক্সের নকশাটি ঠিক এমন:
গ্রাউন্ড ফ্লোর: সর্বাধুনিক বাস টার্মিনাস
দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা: সুবিশাল গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা
চতুর্থ থেকে সপ্তম তলা: আধুনিক শপিং মল
অষ্টম থেকে একাদশ তলা: কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র
দ্বাদশ তলা: নামী ব্র্যান্ডের ফুড কোর্ট
শীর্ষ স্তর: মাল্টিপ্লেক্স সিনেমা হল
স্টেশন থেকে সোজা প্ল্যাটফর্মে পৌঁছাবে স্কাইওয়াক
বাস টার্মিনাস থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নামার ঝামেলা এড়াতে একটি সুবিশাল স্কাইওয়াক নির্মাণের কথা ভাবা হচ্ছে। এই স্কাইওয়াকটি বাস টার্মিনাস, লঞ্চঘাট, মেট্রো স্টেশন এবং হাওড়া রেলওয়ে স্টেশনকে একই সূতোয় বেঁধে দেবে।
হাওড়ার সিনিয়র ডিসিএম রাহুল রঞ্জন জানিয়েছেন, একটি কার্যকর স্কাইওয়াকের নকশা বা ডিপিআর (DPR) তৈরির পরিকল্পনা চলছে। এর ফলে যাত্রীরা সরাসরি ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্ম বা অন্য নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মে সহজে পৌঁছে যেতে পারবেন। যানজট কাটাতে ও নিরাপত্তার স্বার্থে এটি অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে।
রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে এই পুরো মেগা প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। এর জন্য দ্রুত একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। প্রকল্পের নকশা ও অর্থ বরাদ্দের চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই পুরোদমে শুরু হবে হাওড়ার এই ঐতিহাসিক মেকওভারের কাজ।