ধানের বদলে সোনা ফলাবে মাটি! মহিলাদের হাতে কলমে মিলেট চাষের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাক লাগাল মালদা

গতানুগতিক ধান, গম ও সবজি চাষের বৃত্ত ভেঙে এবার জলবায়ু সহনশীল এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর মিলেট চাষে এলাকার কৃষকদের নতুন দিশা দেখাতে উদ্যোগী হয়েছে মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে সমাদৃত এই শস্যকে চিকিৎসকরা ‘সুপার ফুড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। বর্তমানে বাজারে মিলেটের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এই বিকল্প চাষের মাধ্যমে কৃষকদের অতিরিক্ত আয়ের এক সোনালী সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

গ্রামীণ অর্থনীতিতে মিলেট চাষের প্রতি মহিলা কৃষকদের আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সম্প্রতি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। কেন্দ্রের নিজস্ব প্রদর্শনী মাঠে পরীক্ষামূলকভাবে মিলেট চাষ করে চাষের সঠিক পদ্ধতি হাতে-কলমে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। মূলত বার্নিয়ার্ড, ফিঙ্গার এবং স্মল মিলেট—এই তিন প্রধান প্রজাতির মিলেট চাষের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণে জানানো হয়েছে যে, একটু উঁচু জমিতে তুলনামূলকভাবে খুব সহজেই এই শস্যের সফল চাষ করা সম্ভব। মাঠের কাজের পাশাপাশি রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈবিক পদ্ধতিতে কীটপতঙ্গ দমন ও গাছের সঠিক পরিচর্যা করার কলাকৌশলও মহিলা কৃষকদের নিখুঁতভাবে শিখিয়ে দেওয়া হয়।

মালদা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান বিজ্ঞানী দুষ্যান্ত কুমার রাঘব সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, প্রচলিত ধান, গম ও সবজির পাশাপাশি মিলেট চাষ করলে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে ভীষণভাবে লাভবান হতে পারেন। এই চাষে অতিরিক্ত কোনো জটিল পরিচর্যা বা বিপুল পরিমাণ পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। মিলেট প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে অত্যন্ত সহজে রুটি, বিস্কুট এবং সুস্বাদু ডালিয়ার মতো একাধিক পুষ্টিকর খাদ্যসামগ্রী তৈরি করা সম্ভব। মূলত নারীদের এই চাষে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করে গোটা জেলাজুড়ে মিলেটের চাষ আরও বেশি মাত্রায় বিস্তৃত করার সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়া মহিলা কৃষক কল্যাণী মণ্ডল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন যে, ধান, গম, ভুট্টা, সর্ষে ও আলুর মতো চিরাচরিত ফসল চাষের পাশাপাশি মিলেট, রবি শস্য, পেঁপে ও কলার মতো পুষ্টিকর খাদ্যফসল চাষের বিষয়ে বিশদ প্রশিক্ষণ পেয়ে তাঁদের ধারণার পরিধি অনেকটাই প্রসারিত হয়েছে। কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে একদিকে যেমন জেলার মাটিতে স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্যের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, তেমনই বিকল্প চাষাবাদের হাত ধরে স্থানীয় কৃষকদের আর্থিক স্বাবলম্বিতার রাস্তা আরও অনেক বেশি প্রশস্ত হবে। জেলার আনাচে-কানাচে মিলেট চাষের এই জোয়ার ছড়িয়ে পড়লে কৃষকদের আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেই আশাবাদী ওয়াকিবহাল মহল।