মোদী-শাহের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেন তেজস্বী! প্রশান্ত কিশোরের বিস্ফোরক দাবিতে বিহারের রাজনীতিতে চরম ভূকম্পন!

জন সুরজ পার্টির প্রধান এবং বিহারের বাঁকিপুরের প্রভাবশালী বিধায়ক প্রশান্ত কিশোর রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবের বিরুদ্ধে এক অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর সরাসরি দাবি, তেজস্বী যাদব বিরোধী দলের কঠোর সমালোচক হওয়ার নাটক করলেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে নিয়মিত পর্দার আড়ালে গোপন বৈঠক করেন। প্রশান্ত কিশোরের এই রহস্যময় মন্তব্যের জেরে বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র চাঞ্চল্য ও হুলস্থুল পড়ে গেছে। যদিও এই গুরুতর অভিযোগের পর তেজস্বী যাদব বা তাঁর দলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

মূলত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত কিশোরকে তেজস্বী যাদব সম্পর্কে একটি বিশেষ প্রশ্ন করা হয়েছিল। সাংবাদিকরা পিকে-কে জানান যে, তেজস্বী সম্প্রতি এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছিলেন—তিনি বিহারে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর কাছে ৫,০০০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ দাবি করে একটি চিঠি লিখেছেন, কিন্তু কেন্দ্র থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো সদুত্তর বা সন্তোষজনক সাহায্য মেলেনি। এই প্রসঙ্গে তেজস্বীকে নিশানা করেই পিকে ওই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

প্রশান্ত কিশোর অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে বলেন যে, তেজস্বী যাদব যেহেতু বিহার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা, তাই তাঁর রাজ্যবাসীর স্বার্থে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করা উচিত। পিকে খোঁচা দিয়ে বলেন, তেজস্বী যাদব যদি নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কিংবা অন্য কোনো গোপন স্বার্থ নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে পর্দার আড়ালে দেখা করতে পারেন, তবে রাজ্যের লাখ লাখ বানভাসি মানুষের মঙ্গলের জন্যও তাঁর অবিলম্বে তাঁদের সঙ্গে দেখা করা উচিত এবং কেন্দ্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা উচিত।

উল্লেখ্য, এর আগে আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব বিহারের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিহারে বন্যার কারণে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান করছে না। তেজস্বীর দাবি অনুযায়ী, বন্যায় ইতিমধ্যেই রাজ্যে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ৪৫ লক্ষ মানুষ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং অমিত শাহ বন্যা ত্রাণ সহায়তার কোনো সুনির্দিষ্ট ও সন্তোষজনক ঘোষণা করেননি। যদিও তেজস্বী কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে ৫,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সাহায্যের দাবি জানিয়েছিলেন, তবে তা নিয়ে রাজনীতি তুঙ্গে উঠেছে।