জেইউ-তে উমর খালিদকে নিয়ে তথ্যচিত্র প্রদর্শনীর পরিকল্পনা! বাকস্বাধীনতার আড়ালে কী চলছে ক্যাম্পাসে?

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU) এবং ন্যাশনাল ল স্কুল অফ ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি (NLSIU)-তে কারারুদ্ধ ছাত্র আন্দোলনকর্মী উমর খালিদের জীবন ও কর্মকাণ্ডের ওপর নির্মিত বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘বন্দী নং ৬২৬৭১০’-এর প্রদর্শনী কেন্দ্র করে দেশের শিক্ষাঙ্গনে এক বিশাল রাজনৈতিক ও আদর্শগত দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)-এর পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ ও নিরাপত্তার আশঙ্কার মাঝেই শেষ পর্যন্ত এই হাই-প্রোফাইল স্ক্রিনিং স্থগিত করা হয়েছে। এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
এবিভিপি জেএনইউ-এর পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি কড়া বিবৃতি জারি করে অভিযোগ করা হয়েছে যে, জেএনইউএসইউ (JNUSU) মত প্রকাশের স্বাধীনতার মিথ্যা অজুহাত সামনে এনে দিল্লি দাঙ্গার মূল অভিযুক্ত উমর খালিদের প্রতি সহানুভূতি আদায় এবং তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার জন্য এই তথ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করেছিল। ছাত্র সংগঠনের দাবি, জেএনইউএসইউ সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের প্রকৃত মৌলিক সমস্যা যেমন—ছাত্রাবাসের তীব্র সংকট, পড়াশোনার সুনির্দিষ্ট জায়গার অভাব এবং ক্যাম্পাসের জরাজীর্ণ অবকাঠামোগত সমস্যাগুলোর সমাধান না করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।
এবিভিপি কেবল ছাত্র সংসদের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেয়নি, বরং জেএনইউ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে। তাদের জোরালো অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের নীরব সমর্থন ও পূর্বানুমতি ছাড়া এ ধরনের সংবেদনশীল কার্যক্রম ক্যাম্পাস চত্বরে চালানো সম্পূর্ণ অসম্ভব। এবিভিপি-র প্রশ্ন, কোন প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মের বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন বিচারাধীন বন্দির প্রচারমূলক তথ্যচিত্র প্রদর্শনের অনুমতি প্রদান করল? দেশের সাধারণ মানুষের করের টাকায় পরিচালিত এই মর্যাদাপূর্ণ সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে তথাকথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী মতাদর্শের প্রচার এবং রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, ক্যাম্পাসের জাতীয়তাবাদী এবং দেশপ্রেমিক সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা যখন ছোটখাটো বিষয়েও নানাবিধ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও কড়া বিধিনিষেধের মুখোমুখি হচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাসী ছাত্ররা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরের বহুমূল্য সরকারি সম্পদ ইচ্ছেমতো ব্যবহার করার অবাধ লাইসেন্স পাচ্ছে। জেএনইউ-তে এই ধরনের বাম-প্রশাসনের অশুভ আঁতাতের অবিলম্বে অবসান ঘটানো, শিক্ষাঙ্গনের রাজনীতিকরণ চিরতরে বন্ধ করা এবং সর্বোচ্চ শিক্ষার পবিত্র মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জোরালো দাবি জানিয়েছে এবিভিপি।
উল্লেখ্য, কারারুদ্ধ আন্দোলনকর্মী উমর খালিদকে কেন্দ্র করে তৈরি এই তথ্যচিত্রটি সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, সন্ধ্যা ৭টায় এনএলএসআইইউ (NLSIU)-তে প্রদর্শিত হওয়ার কথা নির্ধারিত ছিল। উমর খালিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে ‘ল অ্যান্ড সোসাইটি কমিটি’ এই স্ক্রিনিংয়ের আয়োজনের মূল দায়িত্বে ছিল। কিন্তু এবিভিপি-র তীব্র ও কঠোর বিরোধিতা, ব্যাপক অসন্তোষ এবং উদ্ভূত লজিস্টিক ও নিরাপত্তাজনিত চরম উদ্বেগের জেরে নির্ধারিত সময়ে সেই প্রদর্শনী স্থগিত রাখতে বাধ্য হন আয়োজকরা। যদিও আয়োজক কমিটির দাবি যে তাঁরা কোনো রাজনৈতিক চাপের মুখে নতি স্বীকার করেননি, তবুও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের ল’ ও লিবারেল ক্য়াম্পাসে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ পারদ চড়াচ্ছে।