ভেনিষে বাজিমাত বাঙালি কন্যার! ৮৩তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা ছবির পুরস্কার জিতে ইতিহাস অনুপর্ণার!

বিদেশের মাটিতে ফের একবার উজ্জ্বল হয়ে উঠল বাংলার মুখ। ইতালি তথা ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা এশিয়ান ছবির ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক ‘নেটপ্যাক অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নিয়েছে বাঙালি পরিচালক অনুপর্ণা রায়ের ছবি ‘লাভার্স ইন দ্য ব্লু নাইট’। সুদূর পুরুলিয়া থেকে ভেনিসের রেড কার্পেট পর্যন্ত অনুপর্ণার এই ঐতিহাসিক পথচলা একেবারেই মসৃণ ছিল না। একসময় যে বাবা-মা তাঁর চলচ্চিত্র নির্মাণ বা পরিচালনার স্বপ্নের ঘোর বিরোধী ছিলেন, আজ মেয়ের এই আন্তর্জাতিক ও বিরল সাফল্যে তাঁরাও আনন্দে আত্মহারা। ছবিটির স্ক্রিনিং শেষ হওয়ার পর ভেনিসের সুধী দর্শক ও সমালোচকরা প্রায় সাত মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে এই ছবিকে উষ্ণ অভিবাদন জানান, যা যেকোনো আন্তর্জাতিক পরিচালকের কাছেই এক পরম প্রাপ্তি এবং গর্বের মুহূর্ত।

এর আগেও গত বছর ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের একই বিভাগে তাঁর প্রশংসিত ছবি ‘সংস অব ফরগটন ট্রিজ’ সেরা পরিচালকের শিরোপা অর্জন করেছিল। পুরস্কার প্রাপ্তির পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অনুপর্ণা আবেগপ্রবণ কণ্ঠে জানান যে, আন্তর্জাতিক এই উৎসবে ছবি মনোনীত হওয়াটাই তাঁর কাছে অনেক বড় ব্যাপার ছিল। এই বিশাল জয় তাঁর কাছে একটি সুন্দর স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে এবং তিনি চান এই স্বপ্ন যেন কখনো না ভাঙে। ছবিটির সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত আবেগ ও গভীর স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচারক মণ্ডলী এবং সাধারণ দর্শকদের কাছ থেকে এমন অকুণ্ঠ ভালোবাসা ও প্রশংসা পাওয়ায় তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

তবে এই বিরাট সাফল্যের আনন্দের মধ্যেও রয়েছে এক গভীর আক্ষেপ ও লড়াইয়ের গল্প। অনুপর্ণার গত বছরের পুরস্কৃত ছবি ‘সংস অব ফরগটন ট্রিজ’ এখনও সেন্সর বোর্ডের নানা আপত্তির বেড়াজালে আটকে থাকায় ভারতের মাটিতে মুক্তিলাভ করতে পারেনি। তা সত্ত্বেও সমস্ত প্রতিকূলতা ও সেন্সরের বাধাকে পেছনে ফেলে বিশ্বমঞ্চে বাঙালি কন্যার এই ঐতিহাসিক জয় ভারতীয় স্বাধীন চলচ্চিত্র জগতের মুকুটে নতুন এবং উজ্জ্বল পালক যোগ করেছে।