নাবালিকাকে হোটেলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ! পকসো আইনে অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর ৬ বছরের সাজা ঘোষণা আদালতের

রাজস্থানের চুরু জেলার পকসো মামলার বিশেষ আদালত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করেছে। ২০২৪ সালে দায়ের করা একটি চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ মামলায় আদালত এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীকে দোষী সাব্যস্ত করে ছয় বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। বিচারক তাঁর আদেশে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশ দিয়েছেন যে, ওই অপ্রাপ্তবয়স্ক অপরাধীর বয়স যতদিন না পর্যন্ত একুশ বছর পূর্ণ হচ্ছে, ততদিন তাকে বিকানেরের একটি বিশেষ ‘নিরাপদ স্থানে’ কড়া নিরাপত্তায় রাখা হবে। এর পাশাপাশি, নিগৃহীতা ভুক্তভোগীকে উপযুক্ত ন্যায়বিচার ও আর্থিক স্বস্তি প্রদানের লক্ষ্যে ‘ভুক্তভোগী ক্ষতিপূরণ প্রকল্প’-এর অধীনে ছ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে, যখন চুরুর মহিলা থানায় এই সংক্রান্ত মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছিল। পুলিশি তদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রতনগড় থানা এলাকার বাসিন্দা ১৫ বছরের এক নাবালিকা চুরুর একটি গ্রামে তার নানাবাড়িতে থেকে সেলাই প্রশিক্ষণ নিত। সেলাই শেখার কাজে সে প্রতিদিন নিজের গ্রাম থেকে চুরু শহরে যাতায়াত করত। এই নিয়মিত যাতায়াতের সুবাদেই চুরু বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এক কিশোরের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। সামান্য পরিচয়ের পর থেকেই ওই কিশোর নানাবিধ কথা বলে তাকে প্রভাবিত করতে শুরু করে।
ভুক্তভোগী কিশোরীর আইনি অভিযোগে প্রকাশ, প্রথম পরিচয়ের ঠিক পরের দিনই ওই কিশোর কথা বলার সুনির্দিষ্ট অজুহাতে তাকে ফুসলিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে যায়। সে সরলমনা নাবালিকাটিকে সোজা চুরুর পুরনো বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত ‘সানরাইজ হোটেল’-এ নিয়ে যায় এবং সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এখানেই শেষ নয়, এই নারকীয় অপরাধ সংঘটিত করার পর অভিযুক্ত কিশোর ভুক্তভোগীকে হুমকি দেয় যে, সে যদি এই ঘটনার কথা কাউকে জানায়, তবে তাকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে। এই চরম ভয়াবহ ও মানসিক আঘাতের পর আতঙ্কিত ভুক্তভোগী বাড়ি ফিরে তার পরিবারকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ করে চুরুর মহিলা থানায় একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়।
মামলাটি রুজু হওয়ার পর চুরু মহিলা পুলিশ থানা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং সমস্ত প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক ও পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সংগ্রহ করে। তদন্তের কাজ শেষ হলে পুলিশ আদালতে একটি শক্তপোক্ত চার্জশিট দাখিল করে। পকসো আদালতে দীর্ঘ সময় ধরে মামলাটির নিয়মিত শুনানি চলে। উভয় পক্ষের আইনজীবীদের সমস্ত যুক্তিতর্ক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে শোনার পর এবং মামলার ফাইলে থাকা নথি, তথ্যপ্রমাণ ও সাক্ষীদের বয়ান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করে বিচারক এই কড়া রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত সমাজের অপরাধপ্রবণ মানসিকতার বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।