টাকার পাহাড় নাকি প্রভাবের খেলা? শালবনি দুর্নীতি মামলায় সুমিত-সুজয় লেনদেনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে!

শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই যেন একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে গোয়েন্দাদের হাতে। সম্প্রতি মেদিনীপুর আদালতে সিআইডির পক্ষ থেকে যে চার্জশিট পেশ করা হয়েছে, তাতে রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। এই চার্জশিটের সাক্ষীর তালিকায় রয়েছে সর্বমোট ২০ জনের নাম, যার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুজন প্রাক্তন পিএসও (PSO)। শুধু তাই নয়, এলাকার বর্তমান পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে শাসকদলের একাধিক প্রভাবশালী নেতা এবং প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার ব্যক্তিগত গাড়ির চালকের নামও রয়েছে এই দীর্ঘ সাক্ষী তালিকায়।
সিআইডি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তকারী অফিসাররা ঘটনার গভীরে পৌঁছানোর জন্য একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। আর সেই জিজ্ঞাসাবাদ পর্বেই সুমিত রায় এবং সুজয় হাজরার মধ্যকার গোপন আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুই প্রাক্তন পিএসও এবং সুজয় হাজরার গাড়ির চালক স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এই দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যে বিশাল অংকের টাকার লেনদেন তাঁদের নিজ চোখে নজরে এসেছিল। এমনকী, সুজয় হাজরার অবৈধ টাকা অত্যন্ত সুকৌশলে এবং নিয়মিতভাবে পৌঁছে দেওয়া হতো সুমিত রায়ের নিজস্ব দপ্তরে। এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি তদন্তের মোড় সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
তদন্তে আরও জানা গেছে, কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বা তাঁদের সহযোগীরাই নন, এই আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে মুখ খুলেছেন এলাকার দুই বিশিষ্ট ব্যবসায়ীও। সিআইডির চার্জশিটে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই ব্যবসায়ী সুমিত রায় ও সুজয় হাজরার মধ্যকার এই আর্থিক লেনদেনের কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাঁদের এই মুখ না খোলার পিছনেও ছিল এক চরম ত্রাসের বাতাবরণ। ব্যবসায়ীদের দাবি, সুমিত রায়ের একচ্ছত্র প্রভাব এবং ক্ষমতার দাপট এতটাই বেশি ছিল যে, প্রাণভয়ে বা পুলিশ-প্রশাসনের রোষানলে পড়ার আশঙ্কায় এতদিন কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি। ভয়ে সমস্ত অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করতে বাধ্য হয়েছিলেন তাঁরা।
বর্তমানে সিআইডির এই সুনির্দিষ্ট চার্জশিট এবং মেদিনীপুর আদালতে জমা পড়া সাক্ষ্যপ্রমাণ ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিরোধীরা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানাতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, তদন্তকারীদের হাতে এই জোরালো তথ্যপ্রমাণ আসার পর আগামী দিনে শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্তদের আইনি জটিলতা যে আরও বহুগুণ বাড়বে, সে বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর এই হাইপ্রোফাইল দুর্নীতির জাল কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয় এবং এর নেপথ্যে থাকা আসল কুশীলবরা শেষ পর্যন্ত কঠোর শাস্তির মুখে পড়েন কি না।