নেপালের হড়পা বানে মুকুল রায়ের পুত্রবধূর নিখোঁজ রহস্যে বড় মোড়! চিনা ভূখণ্ডে কি সুরক্ষিত রয়েছেন শর্মিষ্ঠা?

নেপালের ভয়াবহ হড়পা বানে মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অবশেষে এল এক নতুন ও আশার আলো দেখানো তথ্য। গত ২৬ আগস্ট নেপালের চিন-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকেই ৪৪ বছর বয়সি শর্মিষ্ঠার সঙ্গে পরিবারের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক বেশ কিছু রিপোর্ট ও সরকারি তথ্যের ভিত্তিতে কাঁচরাপাড়ার রায় পরিবার এবার নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা সূত্র ও বিভিন্ন মিডিয়ার খবর অনুযায়ী, ওই ভয়াবহ বিপর্যয়ের ঠিক আগেই শর্মিষ্ঠা আটটি ইমিগ্রেশন সেন্টার পার করে একেবারে চিন সীমান্তবর্তী এলাকায় পৌঁছে গিয়েছিলেন। ফলে পরিবারের জোরালো ধারণা, বানের তাণ্ডব শুরু হওয়ার আগেই চিনা সীমান্ত কর্তৃপক্ষ চেকপয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়ায় শর্মিষ্ঠা-সহ নিখোঁজ ৩২ জন ভারতীয় পর্যটক বর্তমানে চিনা ভূখণ্ডের ভেতরেই কোনো নিরাপদ সামরিক বা উদ্ধার শিবিরে সুরক্ষিত অবস্থায় থাকতে পারেন।
এই পরিস্থিতিতে নিখোঁজ স্ত্রীর দ্রুত সন্ধান পেতে এবং চিন সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে যোগাযোগ করতে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের কাছে অত্যন্ত আকুল আবেদন জানিয়েছেন স্বামী শুভ্রাংশু রায়। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি সরাসরি কেন্দ্রকে অনুরোধ করেছেন যাতে দ্রুত বেজিংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই ৩২ জন ভারতীয় পর্যটকের সঠিক অবস্থান ও সুরক্ষা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়। শুভ্রাংশুর মতে, তিব্বত সীমান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা হওয়ায় সেখানে এমনিতেই কঠোর যোগাযোগ বিধিনিষেধ থাকে, যার জেরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর মোবাইল নেটওয়ার্ক সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে এবং পর্যটকরা সুরক্ষিত থাকলেও যোগাযোগ করতে পারছেন না। ভারত সরকার একটু তৎপর হলেই এই সমস্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
পাশাপাশি, এই গোটা বিপর্যয়ের নেপথ্যে সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ সংস্থাগুলির চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও গাফিলতি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শুভ্রাংশু রায়। তিনি মিডিয়ার সামনে অভিযোগ করেছেন যে, শর্মিষ্ঠা একটি নির্দিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে একাই নেপাল ভ্রমণে গিয়েছিলেন, কিন্তু নেপালে পৌঁছানোর পর দায়িত্ব বদল হয়ে স্থানীয় ও চিনা পর্যটন সংস্থাগুলির হাতে চলে যায়। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি রহস্যময় বাসের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যার সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ওই বাসে থাকা প্রতিটি পর্যটকের পরিচয় ও সমস্ত দাপ্তরিক নথি খুঁটিয়ে সরকারিভাবে যাচাই করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন বেসরকারি মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়লেও এখনও পর্যন্ত শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের সুনির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে কোনো পাকাপাকি খবর বা সরকারি নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। সম্ভাব্য প্রতিটি সূত্র ও তথ্যকে নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখে নিখোঁজ স্বজনদের বুকে টেনে নিতে মুখিয়ে রয়েছে রায় পরিবার। এখন দেখার বিষয়, ভারতের বিদেশমন্ত্রক চিন সরকারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ স্থাপন করে ঠিক কত দ্রুত এই ভয়াবহ রহস্যের জাল ভেদ করে নিখোঁজ পর্যটকদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে।