সংসার ছেড়ে প্রাক্তনের কাছে যেতেই বড় সিদ্ধান্ত স্বামীর! স্ত্রীর খুশিতে নিজের হাতে যা করলেন জওয়ান…?

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের মালিহাবাদ এলাকায় ঘটে যাওয়া এক অবিশ্বাস্য ও অত্যন্ত হৃদয়বিদারক অথচ মানবিক ঘটনা বর্তমানে গোটা দেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। প্রচলিত সামাজিক নিয়ম ও সংঘাতের পথ সম্পূর্ণ এড়িয়ে এক পিআরডি জওয়ান যা করেছেন, তা এককথায় বিরল। বিয়ের পর স্ত্রী যখন সাফ জানিয়ে দিলেন যে তিনি স্বামীর সংসার ছেড়ে প্রাক্তনের সঙ্গেই জীবন কাটাতে চান, তখন রাগ বা প্রতিশোধের পথে না হেঁটে ওই জওয়ান স্বামী স্ত্রীর সুখের কথা মাথায় রেখে তাঁর হাত তাঁরই প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে এক নজিরবিহীন মানসিকতার পরিচয় দিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় এক বছর আগে। পরিবারের তীব্র চাপ ও অমতে বাধ্য হয়েই লখনউয়ের ওই তরুণী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন এক পিআরডি জওয়ানের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পরেও তাঁর মন আটকে ছিল স্কুলজীবনের সেই পুরনো প্রেমের সম্পর্কের মধ্যেই। কিছুদিন আগে পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়ে আচমকাই শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে নিজের প্রাক্তনের কাছে হারদোই চলে যান ওই তরুণী। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করা হলে পুলিশ তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে এবং ওই তরুণীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এরপর দুই পরিবার এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক দীর্ঘ মীমাংসা বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে ওই তরুণী একেবারে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন যে, তিনি কোনোভাবেই এই সংসারে আর ফিরবেন না এবং প্রাক্তনের সঙ্গেই বাকি জীবন কাটাতে চান। স্ত্রীর মুখে এই স্পষ্ট কথা শোনার পর স্বামী কোনোরকম জোরজবরদস্তি বা অশান্তির পথ বেছে নেননি। বরং স্ত্রীর আসল ইচ্ছে ও ভালোলাগাকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। দুই পরিবারের সম্মতিতে এবং সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর স্থানীয় একটি মন্দিরে হিন্দু রীতি ও নিষ্ঠার সঙ্গে তরুণী ও তাঁর প্রেমিকের বিয়ের সমস্ত ব্যবস্থা করেন স্বয়ং ওই জওয়ান স্বামী।
মন্দিরে বসে সাতপাক ঘুরে, মালাবদল করে প্রাক্তন প্রেমিকের সঙ্গেই নতুন জীবন শুরু করেন সেই তরুণী। আর সবশেষে নিজের হাতে স্ত্রীকে তাঁর প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে চোখের জলে এক অদ্ভুত বিদায় জানান সেই স্বামী। প্রতিহিংসা বা ক্ষোভের পরিবর্তে ভালোবাসার এই বিচিত্র ও উদার রূপ মালিহাবাদ ছাড়িয়ে এখন সারা দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছে। সমাজমাধ্যমে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নেটিজেনরা জওয়ানের এই বিশাল হৃদয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।