টানা ব্যাঙ্ক বন্ধে চরম দুর্ভোগের আশঙ্কা! সেপ্টেম্বরে ফের দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক, মাথায় হাত সাধারণ গ্রাহকদের

সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই সাধারণ গ্রাহকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেশজুড়ে একের পর এক ব্যাঙ্ক ধর্মঘট এবং ছুটির ঘনঘটা শুরু হয়েছে। গত ১১ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট পালিত হওয়ার পর এবার শনি ও রবিবারের সাপ্তাহিক ছুটির খড়্গ নেমে এসেছে। আজ শনিবার মাসের দ্বিতীয় শনিবার এবং আগামীকাল রবিবার হওয়ায় এমনিতেই সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি ব্যাঙ্কের শাখা বন্ধ রয়েছে। এর সঙ্গে গত শুক্রবারের ধর্মঘটের ধাক্কা যুক্ত হওয়ায় বহু গ্রাহকের জন্য টানা তিন দিনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে কারণ আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার দেশের বেশ কিছু রাজ্যে গণেশ চতুর্থীর সরকারি ছুটি থাকার সুবাদে ব্যাঙ্ক বন্ধের মেয়াদ কোথাও কোথাও টানা চার দিনে গড়ায়। এর ফলে জরুরি আর্থিক লেনদেন করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ইউনাইটেড ফোরাম অফ ব্যাঙ্ক ইউনিয়ন্স (UFBU)-এর আহ্বানে মূলত ৫ দিনের ব্যাঙ্কিং সপ্তাহ চালু করা, পারফরম্যান্স লিঙ্কড ইনসেনটিভ (PLI) ব্যবস্থার পরিবর্তন এবং পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদী বকেয়া দাবি দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার দাবিতে এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের প্রধান দাবি হলো—সপ্তাহে ৫ দিন ব্যাঙ্ক খোলা রেখে শনিবার ও রবিবার পূর্ণাঙ্গ ছুটি ঘোষণা করা। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এই দাবিগুলি এখনও পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় কর্মী মহলে ক্ষোভের আগুন দাউদাউ করে জ্বলছে। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তবে এই ঘূর্ণাবর্ত এখানেই শেষ হচ্ছে না। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে ফের বড়সড় বিপদের ঘণ্টা বাজিয়েছে ব্যাঙ্ক ইউনিয়নগুলি। আগামী ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিন দেশব্যাপী ব্যাপক ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, যদি এই সময়ের মধ্যে তাদের দাবিদাওয়া না মেটানো হয়, তবে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছে ইউনিয়নগুলি। উৎসবের মরসুমের ঠিক আগে এহেন দফায় দফায় ধর্মঘট এবং ছুটির জেরে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নিয়ে দারুণ অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শাখাগুলিতে নগদ টাকা জমা বা তোলা, চেক ক্লিয়ারিং, নতুন ঋণ অনুমোদন এবং কেওয়াইসি (KYC)-র মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। যদিও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে যে, এটিএম (ATM), ইউপিআই (UPI), ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের মতো ডিজিটাল পরিষেবাগুলি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে, তবুও সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা কাটছে না। তাই উৎসবের দিনগুলিতে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন বা জরুরি কাজ থাকলে তা আগে থেকেই সেরে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।