জোড়াফুল প্রতীক কার? ভোটের আগে কমিশনে মেগা লড়াই, চরম রাজনৈতিক উত্তেজনায় কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি

আসন্ন উপনির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভূতপূর্ব ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং ভাঙনের জেরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দলের ঐতিহ্যবাহী ‘জোড়াফুল’ প্রতীকটি শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে? কালীঘাটের মূল নেতৃত্ব নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবির—কাদের হাতে থাকবে কাঙ্ক্ষিত এই নির্বাচনী প্রতীক? এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্নের ফায়সালা করতে আজই দুই পক্ষকে নিয়ে হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে বসছে ভারতের নির্বাচন কমিশন।

আজ সকাল ঠিক ১১টায় প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসবে কমিশন। এরপর দুপুর ১২টায় কালীঘাট তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। দুই পক্ষের সমস্ত যুক্তি, নথি এবং আইনগত দাবিদাওয়া শোনার পরই প্রতীক সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, নির্বাচন কমিশনের আজকের এই বৈঠকের পর মূলত তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রথমত, কালীঘাট শিবিরকেই পুরোদস্তুর জোড়াফুল প্রতীক বুঝিয়ে দেওয়া হতে পারে। দ্বিতীয়ত, আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে বিদ্রোহী তৃণমূল শিবিরও এই প্রতীক নিজেদের দখলে পেতে পারে। তৃতীয়ত, বিরোধ মেটার আগে পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে কাউকেই এই প্রতীক বরাদ্দ না করার কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

ইতিমধ্যেই রাজ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের দামামা বেজে গেছে। পুজোর আগেই এই দুই বিধানসভা আসনে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে গেলেও দলের ভেতরের অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং প্রতীকের আইনি লড়াইয়ের জেরে চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই মূলত দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে রাজ্যের এই প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল। দল ভাঙার এই লড়াই আদালত থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। ফলে উপনির্বাচনের লড়াইয়ে নামার ঠিক আগে প্রতীক কাদের হাতে থাকবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চরম জল্পনা ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।

যদি শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন কাউকেই জোড়াফুল প্রতীক বরাদ্দ না করে, তবে আসন্ন নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে দুই পক্ষকেই কার্যত নির্দল প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনী ময়দানে লড়তে হতে পারে। মহারাষ্ট্রের রাজনীতির সাম্প্রতিক অতীতের কথা এই প্রসঙ্গে বিশেষভাবে স্মরণীয়। এর আগে শিবসেনার দখল ও প্রতীক নিয়ে উদ্ধব ঠাকরে এবং একনাথ শিন্ডে শিবিরের মধ্যে যখন তীব্র আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই নির্বাচন কমিশন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছিল। সেই সময় বিতর্ক চলাকালীন দুই শিবিরকেই ‘শিবসেনা’ নাম এবং ঐতিহ্যবাহী ‘ধনুক ও তীর’ প্রতীক ব্যবহার করার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। পরবর্তী সময়ে একনাথ শিন্ডের শিবির ‘বালাসাহেবঞ্চি শিবসেনা’ নাম নিয়ে ‘দুটি তরোয়াল এবং একটি ঢাল’ প্রতীক পেয়েছিল এবং উদ্ধব-পন্থীরা পেয়েছিল ‘জ্বলন্ত মশাল’। বাংলার ক্ষেত্রেও কি মহারাষ্ট্রের সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে? আজকের নির্বাচন কমিশনের বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।