পণ্য পরিবহনে বিপ্লব! ইস্টার্ন রেলের আয়ে আকাশছোঁয়া উল্লম্ফন, রেকর্ড ভাঙা সাফল্যে চোখ কপালে তুলবে সবার

ভারতীয় রেলের পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এক বিরাট এবং ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে অগাস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অত্যন্ত চিত্তাকর্ষক সাফল্য অর্জন করেছে ইস্টার্ন রেলওয়ে জোন। রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইস্টার্ন রেলের জেনারেল ম্যানেজার গীতিকা পাণ্ডের গতিশীল ও দূরদর্শী নেতৃত্বে এই জোন পণ্য পরিবহন এবং রাজস্ব আদায়ের সমস্ত আগের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। জোনটির সামগ্রিক কার্যক্রম এতটাই উন্নত হয়েছে যে দেশের বাণিজ্যিক মহলে এই সাফল্যের জোরালো চর্চা শুরু হয়েছে।

চলতি অর্থবর্ষের ৩১ অগাস্ট, ২০২৬ পর্যন্ত ইস্টার্ন রেলের মোট পণ্য লোডিংয়ের পরিমাণ পূর্ববর্তী অর্থবর্ষের একই সময়ের তুলনায় হু হু করে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই একই সময়ে যেখানে মোট পণ্য লোডিংয়ের পরিমাণ ছিল ৩৯.৭৬ মিলিয়ন টন, সেটি বৃদ্ধি পেয়ে এবছর দাঁড়িয়েছে ৪১.৬২ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ এক ধাক্কায় প্রায় ১.৮৫ মিলিয়ন টন বা ৪.৬৭% উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে রেলের সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক কৌশল এবং উন্নত পরিচালনাগত পরিকাঠামো।

শুধু লোডিং নয়, পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পণ্য পরিবহন থেকে প্রাপ্ত আয়ের পরিমাণও। ইস্টার্ন রেলের তথ্য জানাচ্ছে, পণ্য পরিবহন বাবদ আয় ৩ কোটি টাকা থেকে বেড়ে একেবারে তাক লাগানো জায়গায় পৌঁছেছে। আগের অর্থবর্ষের একই সময়ে যেখানে আয় ছিল ৩,৬৫১.৫৬ কোটি টাকা, সেখানে এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩,৯৫৬.৪০ কোটি টাকায়। এর ফলে অতিরিক্ত ৩০৪.৮৩ কোটি টাকার বিপুল রাজস্ব অর্জিত হয়েছে, যা শতকরা হিসেবে ৮.৩৫% উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধিকে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত করে। দেশের অর্থনৈতিক গতিপ্রকৃতি সচল রাখতে এই রাজস্ব বৃদ্ধি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ইস্টার্ন রেলের প্রিন্সিপাল চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার ড. উদয় শঙ্কর ঝা-র প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় পরিচালিত নিখুঁত বাণিজ্যিক নীতি এবং গ্রাহক-কেন্দ্রিক উদ্যোগের জেরে এই সাফল্য এসেছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় কয়লা পরিবহন বরাবরের মতো এবারও তার প্রধান ভিত্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান অটুট রেখেছে। পরিসংখ্যান বলছে, কয়লা লোডিংয়ে এক লাফে ১০.৪৪% উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের ২৫.৭৯ মিলিয়ন টন থেকে তা বেড়ে সোজা ২৮.৪৮ মিলিয়ন টন হয়েছে, যা এক বিরাট অগ্রগতি। শুধু তাই নয়, কয়লা পরিবহন থেকে আয়ে আরও বেশি উল্লম্ফন দেখা গিয়েছে। এই খাতে ১৮.৪৭% বৃদ্ধি পেয়ে আয় ৪৩১.০১ কোটি টাকা বেড়ে মোট ২,৭৬৪.৫৬ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা গত বছর ছিল ২,৩৩৩.৫৬ কোটি টাকা।

কয়লার পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যও লোডিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য রেকর্ড গড়েছে। এর মধ্যে লোহা আকরিক বা আয়রন ওরে (Iron Ore)-এ ৪৫.৩১%, খাদ্যশস্যে (Food Grains) ৪২.৯৯% এবং ক্লিঙ্কারে (Clinker) ১.৪০% বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি লৌহ আকরিক ও ক্লিঙ্কার পরিবহন থেকে রাজকোষেও এসেছে মোটা অংকের রাজস্ব। বর্তমান মোট পণ্য লোডিংয়ের বিভিন্ন পণ্যের অনুপাত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে কয়লা—যা মোট লোডিংয়ের ৬৮.৪৩%। এরপর ক্রমান্বয়ে রয়েছে সিমেন্ট ৫.৬৩%, লোহা ও ইস্পাত ৪.৬৫%, সার ১.৭১% এবং অন্যান্য পণ্য ১৮.০৪%।

পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড এবং বিহার রাজ্য জুড়ে বিস্তৃত ইস্টার্ন রেলের এই সুবিশাল কর্মক্ষেত্র মূলত দেশের জ্বালানি, খনন, ইস্পাত, নির্মাণ, কৃষি এবং বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের মূল সরবরাহ শৃঙ্খলকে সচল রাখতে জাদুকরি ভূমিকা পালন করে চলেছে। এই সামগ্রিক সাফল্য প্রসঙ্গে ইস্টার্ন রেলের চিফ পাবলিক রিলেশনস অফিসার শিবরাম মাঝি অত্যন্ত আশাবাদী সুরে জানান, এই অনন্য বৃদ্ধি মূলত গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং পরিচালনাগত উৎকর্ষের প্রতি তাদের ধারাবাহিক আস্থারই প্রকৃত প্রতিফলন। রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তাদের পণ্য পরিবহন পরিষেবাকে আগামী দিনে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক, কার্যকর এবং নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে, এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্প্রসারণে গতি আনতে রেলওয়ের প্রতিটি সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতেও তারা সদা তৎপর রয়েছে।