বাড়িতে গণেশ মূর্তি আনছেন? শুঁড়ের দিক ভুল হলেই সর্বনাশ, কোন দিকে ফেরালে ঘরে উপচে পড়ে সুখ?

সামনে কড়া নাড়ছে গণেশ চতুর্থী। ঘরে ঘরে বাপ্পাকে স্বাগত জানাতে এখন থেকেই জোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু মূর্তি কিনতে গিয়ে অনেকেই হয়তো খেয়াল করেন না যে গণেশের শুঁড় কোন দিকে বাঁকানো রয়েছে। শাস্ত্র বলছে, এই বিষয়টি একেবারেই নিছক কোনো ডিজাইন নয়, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে গভীর আধ্যাত্মিক ও শাস্ত্রীয় তাৎপর্য। মূর্তির শুঁড়ের দিক দেখেই নির্ধারিত হয় সেটি আপনার পরিবারে সুখ আনবে নাকি বিপত্তি বাড়াবে।

বাস্তুশাস্ত্র ও শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী গণেশ মূর্তির শুঁড়ের তিন রকমের অবস্থান এবং তার ফল সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক:

বাঁ দিকে শুঁড় (বামমুখী গণেশ) বেশিরভাগ বাড়িতে যে গণেশ মূর্তি দেখা যায়, তার শুঁড় বাঁদিকে বাঁকানো থাকে। শাস্ত্র মতে, বাঁ দিক হলো চন্দ্র নাড়ির প্রতীক, যা শান্ত ও শীতল শক্তির নির্দেশ করে। এই মূর্তি গৃহস্থের জন্য সবচেয়ে আদর্শ। এই গণেশ খুব সহজে প্রসন্ন হন এবং সামান্য পুজোতেই সন্তুষ্ট থেকে সংসারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখেন। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে এই মূর্তি স্থাপন করা সবচেয়ে শুভ।

ডান দিকে শুঁড় (দক্ষিণমুখী গণেশ) এই ধরনের মূর্তির শুঁড় ডানদিকে বাঁকানো থাকে, যাকে সিদ্ধি বিনায়কও বলা হয়। ডান দিকটি সূর্য নাড়ির প্রতীক হওয়ায় এটি অত্যন্ত তেজস্বী। এই মূর্তিকে অত্যন্ত জাগ্রত মনে করা হয়। ইনি খুব দ্রুত ফল দেন, তবে পুজো বা নিয়মে সামান্য ভুল হলেই দ্রুত রুষ্ট হতে পারেন। এই মূর্তি বাড়িতে রাখার নিয়ম অত্যন্ত কঠিন, যেখানে প্রতিদিন নিষ্ঠাভরে পুজো এবং আরতি করতে হয়। তাই সাধক বা মন্দিরের জন্যই এই মূর্তি প্রধানত উপযুক্ত, বাড়িতে না রাখাই ভালো।

সোজা শুঁড় (সুষুম্না গণেশ) যেসব মূর্তিতে শুঁড় একদম সোজা সামনের দিকে থাকে, সেগুলি অত্যন্ত বিরল। শাস্ত্র মতে, সোজা শুঁড় সুষুম্না নাড়ির প্রতীক, যা বাস্তুদোষ ও শনি দোষ নাশ করতে সাহায্য করে। এটি যোগ ও কুন্ডলিনী জাগরণেরও প্রতীক। যারা ধ্যান ও যোগ সাধনা করেন বা বাড়িতে শান্তি বজায় রাখতে চান, তাদের জন্য এই ধরনের মূর্তি অত্যন্ত ফলদায়ক।

সাধারণ গৃহস্থ পরিবারে যেখানে প্রতিদিন জাঁকজমক করে পুজো করা সম্ভব হয় না, সেখানে চোখ বন্ধ করে বাঁ দিকে শুঁড় থাকা গণেশ মূর্তি আনা উচিত। এতেই সংসারে বাপ্পার আশীর্বাদ অটুট থাকে এবং জীবনের সব বাধা দূর হয়।