আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স না দিলেই ভাইরাল করার হুমকি! মিষ্টির দোকানে তুলকালাম

জেলায় জেলায় বিভিন্ন খাবার দোকানে গিয়ে ফুড ভ্লগিংয়ের ট্রেন্ড গত কয়েক বছরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেলেও, এর আড়ালে অপরাধমূলক কাজকর্মের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এল। সমাজমাধ্যমের পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি মিষ্টির দোকানের বিরুদ্ধে ভুয়া অভিযোগ তুলে ব্ল্যাকমেল করার গুরুতর অভিযোগ উঠল হাবরার এক নারী ফুড ভ্লগারের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম সহেলী দে সূত্রধর। এই ঘটনায় হাবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযুক্তের তরফ থেকে হাবরার ‘শ্রীকৃষ্ণ সুইটস’ নামের দোকান থেকে দুটি লাড্ডু ও দুটি সন্দেশ কেনা হয়। এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর তাঁরা দোকানে ফিরে এসে মিষ্টির মধ্যে পোকা থাকার দাবি তুলে হাঙ্গামা শুরু করেন। এরপর বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তৈরি পোকা মেশানো ওই মিষ্টির একটি ছবি ও ভিডিও দোকানের মালিকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো হয় বলে অভিযোগ।
দোকানের মালিক নয়ন ঘোষের দাবি, সেই ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁকে বারবার ফোন করে ব্ল্যাকমেল করা হয়। তিনি জানান, বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার শর্ত হিসেবে তাঁর কাছে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স মোবাইল ফোন এবং নগদ ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল। মালিকের সাফাই, তাঁদের মিষ্টি তৈরির কারখানা সম্পূর্ণ আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয়। সেখানে খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা হয়, ফলে মিষ্টিতে পোকা থাকার দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ব্যবসার সুনাম নষ্ট করে ভয় দেখিয়ে টাকা ও দামি ফোন আদায়ের জন্যই এই ফাঁদ পাতা হয়েছিল বলে তাঁর অভিযোগ। এর পরেই দেবীনগর এলাকার বাসিন্দা সহেলী দে সূত্রধর ও তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত ফুড ভ্লগারের দাবি, তাঁরা সম্পূর্ণ চক্রান্তের শিকার এবং তাঁদের ফাঁসানো হয়েছে। তবে অবাক করা বিষয় হলো, দোকানদারের সঙ্গে ঝামেলা মেটানোর জন্য টাকা ও আইফোনের দাবি করা হয়েছিল বলে আংশিকভাবে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। অভিযুক্তদের পালটা বক্তব্য, বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব হিসেবেই ওই দাবি রাখা হয়েছিল। বর্তমানে ভাইরাল হওয়া ভিডিও, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কথোপকথন এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ খতিয়ে দেখছে হাবরা থানার পুলিশ।
অন্যদিকে, এই ঘটনার নেপথ্যে ভ্লগারদের ব্ল্যাকমেলিংয়ের তত্ত্ব নতুন নয়। সম্প্রতি নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগে কলকাতায় একাধিক রেস্তোরাঁর ফুড লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছে কলকাতা পুরসভা। পার্ক স্ট্রিট ও অফিস পাড়ার সেই সমস্ত নামী রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, এক শ্রেণির ফুড ভ্লগার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটররা ব্ল্যাকমেল করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। সেই চাহিদা না মানলেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বদনাম করার ভয় দেখানো হয়। যদিও সেই ঘটনায় সুনির্দিষ্টভাবে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি, তবে হাবরার এই নতুন ঘটনা গোটা ভ্লগিং দুনিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিল।