১৩ বছরের খরা কাটল! ঈশান-বৈভবদের দাপটে অনন্য ইতিহাস গড়ে দলীপ ট্রফি চত্ত্বর কাঁপাল পূর্বাঞ্চল।

দীর্ঘ ১৩ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটল। চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলকে প্রথম ইনিংসের লিডের সুবাদে পরাস্ত করে ২০১২-১৩ মরশুমের পর ফের দলীপ ট্রফি নিজেদের করে নিল পূর্বাঞ্চল। পাঁচ দিন ব্যাপী এই মেগা ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজেদের একক আধিপত্য বজায় রেখে দুর্দান্ত জয় ছিনিয়ে নিল ঈশান কিষাণের দল। ম্যাচ শেষ হতেই হাতে স্টাম্প নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন অধিনায়ক ঈশান ও ১৫ বছরের বিস্ময় প্রতিভা বৈভব সূর্যবংশী।
ঈশানের ম্যারাথন ইনিংস ও পাহাড়প্রমাণ স্কোর
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পূর্বাঞ্চল তোলে এক বিশাল ৭০৮ রান। দলের হয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে একাই ২৭০ রানের এক ম্যারাথন ও ঐতিহাসিক ইনিংস খেলেন অধিনায়ক ঈশান কিষাণ। তাঁকে যোগ্য সঙ্গ দেন কুমার কুশাগ্র (১০১) এবং শিখর মোহন (৮৫)। এই বিশাল রানের পাহাড়ের চাপে পড়ে দক্ষিণাঞ্চল তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায়। দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক তিলক বর্মা ৯৯ রানের লড়াকু ইনিংস খেললেও পূর্বাঞ্চলের বোলারদের সাঁড়াশি আক্রমণ সামলাতে পারেননি। পূর্বাঞ্চলের পক্ষে মুকেশ কুমার ৩টি এবং মহম্মদ শামি ও কুরেশি ২টি করে উইকেট শিকার করে প্রথম ইনিংসে দলের ঝুলিতে ৩৭২ রানের বিশাল লিড এনে দেন।
আগ্রাসী ব্যাটিং ও কুরেশির সেঞ্চুরি
বিশাল লিড পাওয়ার পরও নিজেদের আক্রমণাত্মক মানসিকতা থেকে সরে আসেনি পূর্বাঞ্চল। দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৩৮৮ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। দ্বিতীয় ইনিংসেও ঈশানের ব্যাট থেকে আসে ৯৮ বলে দুর্দান্ত ৮০ রান। তবে সব আলো কেড়ে নেন কুরেশি; নিজের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম শতরান হাঁকিয়ে ১১৬ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। এছাড়া অনুকূল রায়ের ৬৪ রানের সুবাদে পূর্বাঞ্চলের সামগ্রিক লিড গিয়ে দাঁড়ায় ৭৬০ রানে। ম্যাচের শেষ দিনে প্রথম ইনিংসের লিডের ভিত্তিতেই পূর্বাঞ্চলকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
১৫ বছরের বৈভবের নজরকাড়া পারফরম্যান্স
পূর্বাঞ্চলের এই ঐতিহাসিক জয়ে দলের অন্যতম বড় আকর্ষন ছিল ১৫ বছরের তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশী। সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা বৈভব ফাইনালের দুই ইনিংসে যথাক্রমে ৪৪ ও ৮ রান করেন। প্রথম ইনিংসে অভিমন্যু ঈশ্বরনের সঙ্গে তাঁর শতরানের ওপেনিং জুটি দলকে চালের আসনে বসিয়ে দিয়েছিল। ব্যাট করার পাশাপাশি তাঁর আত্মবিশ্বাসী ফিল্ডিং ও ডিআরএস রিভিউ নেওয়ার ক্ষিপ্রতাও সকলের নজর কেড়েছে। ম্যাচ শেষে সেই বৈভবকেই অধিনায়ক ঈশানের সঙ্গে মাঠে স্টাম্প হাতে উদ্দাম নাচতে দেখা যায়। সব মিলিয়ে ঈশানের ৩৫০ রান, বোলারদের সম্মিলিত আক্রমণ এবং পুরো দলের পরিশ্রমের ফলেই ১৩ বছর পর এল এই দলীপ জয়।