হিরণ্যক্ষের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে কেন শুকরের রূপ ধরেছিলেন বিষ্ণু? জানুন অলৌকিক বরাহ জয়ন্তীর আসল রহস্য!

সত্যযুগের পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে, যখন পৃথিবীতে অধর্ম এবং অসুরের অত্যাচার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে, তখন ব্রহ্মাণ্ডের ভারসাম্য রক্ষা করতে পরমেশ্বর নানা রূপ ধারণ করেন। হিরণ্যক্ষ নামক এক পরাক্রমশালী অসুরের অত্যাচারে যখন গোটা বিশ্ব কাঁপছিল এবং সে পৃথিবীকে তুলে নিয়ে সমুদ্রের অতল গহ্বরে লুকিয়ে রেখেছিল, তখন ত্রাতা রূপে আবির্ভূত হন স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু। তিনি এমন এক রূপ ধারণ করেছিলেন যা ছিল সম্পূর্ণ কল্পনাতীত—ভগবান বিষ্ণুর সেই ঐতিহাসিক শুকর বা বরাহ অবতারের আবির্ভাব তিথিই সনাতন ধর্মে অত্যন্ত ভক্তি ও নিষ্ঠার সঙ্গে বরাহ জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়।

বৈদিক পঞ্জিকা বা দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষের তৃতীয়া তিথি শুরু হচ্ছে ১৩ই সেপ্টেম্বর সকাল ৭:০৮ মিনিটে এবং তা ১৪ই সেপ্টেম্বর সকাল ৭:০৬ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হবে। উদয় তিথি অনুসারে, চলতি বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর অর্থাৎ রবিবার অত্যন্ত পবিত্র এই বরাহ জয়ন্তী উৎসব পালিত হবে। সনাতন ধর্মে এই বিশেষ দিনে ভগবান বিষ্ণুর বরাহ রূপের আরাধনা করলে জীবনের সমস্ত পাপ ও বাধা দূর হয় বলে বিশ্বাস করেন পুণ্যার্থীরা।

শাস্ত্রীয় কাহিনী অনুযায়ী, হিরণ্যক্ষের কবল থেকে পৃথিবীকে পুনরুদ্ধার করতে ভগবান বিষ্ণু এই অদ্ভুত বরাহ রূপ ধারণ করেছিলেন। তিনি অতল গহ্বরে প্রবেশ করে হিরণ্যক্ষকে বধ করেন এবং নিজের তীক্ষ্ণ দাঁতের ডগায় পৃথিবীকে তুলে ধরে তাকে সসম্মানে তার নিজ স্থানে ফিরিয়ে দেন। পৃথিবীর ত্রাতা ও রক্ষাকর্তা হিসেবে শ্রীবিষ্ণুর এই তৃতীয় অবতারের গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যদিকে, দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এই বিশেষ দিনে ‘বরাহ কলশ পূজা’ করার প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। এই আচারে একটি জলপূর্ণ কলশের ভেতর ভগবান বরাহের বিগ্রহ স্থাপন করে আমপাতা ও নারকেল দিয়ে তা সাজিয়ে বিশেষ পূজা সম্পন্ন করা হয় এবং পরবর্তীতে তা ব্রাহ্মণকে দান করা হয়।

বরাহ জয়ন্তীর দিনে পুজোর অত্যন্ত শুভ সময় হলো ১৩ই সেপ্টেম্বর দুপুর ১:৩০টা থেকে বিকেল ৪:০০টা পর্যন্ত। এই নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যাহ্নকালীন পূজায় ভক্তরা ভগবান বিষ্ণুর বরাহ রূপের ধ্যান করে নানা উপাসনা করতে পারেন। এই দিনে ভোরে স্নান সেরে পরিষ্কার হলুদ বস্ত্র পরে পুজোর স্থান শুদ্ধ করে হলুদ ফুল, ফল, ধূপ, প্রদীপ ও হলুদ রঙের মিষ্টি নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ। বিষ্ণু সহস্রনাম পাঠ এবং বরাহ অবতারের অলৌকিক কাহিনী শোনার মাধ্যমে এই পবিত্র দিনটি উদযাপন করলে পরিবারে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে।