সেমিফাইনালের আগে বিরাট রেকর্ড শফালির! বড় হুঙ্কার দিয়ে কী বললেন তারকা ওপেনার?

বাংলাদেশ মহিলা দলের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল ম্যাচের ঠিক আগে বিস্ফোরক মন্তব্য করে খবরের শিরোনামে চলে এলেন ভারতের তারকা ওপেনার শেফালি ভার্মা। ব্যাট হাতে মাঠে নামার আগে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, একজন ব্যাটার হিসেবে তিনি যখনই ক্রিজে পা রাখেন, অতীতের সমস্ত সাফল্য বা ব্যর্থতা ভুলে সবসময় “শূন্য থেকে শুরু করেন”। চলতি টুর্নামেন্টে ইতিমধ্যে তিন ম্যাচে মোট ১০৪ রান সংগ্রহ করে এবং একটি চমৎকার অর্ধশকের সাহায্যে দলের ব্যাটিং অর্ডারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছেন তিনি। সহ-ওপেনার স্মৃতি মান্ধানার সাথে মিলে তিনি দলের জন্য একটি দুর্দান্ত ও অজেয় ওপেনিং জুটি গড়ে তুলেছেন, যা প্রতিপক্ষ শিবিরের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

শেফালির এই দুর্দান্ত ও আক্রমণাত্মক ফর্ম শুরু হয়েছিল মূলত আইসিসি মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের বিরুদ্ধেই খেলা একটি দুর্দান্ত ম্যাচের মাধ্যমে। সেই ম্যাচে মাত্র ৩৪ বলে ৫৩ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি কেবল ‘প্লেয়ার অফ দ্য ম্যাচ’-এর পুরস্কারই জেতেননি, বরং সেই জয়ের ছন্দকে এশিয়া কাপেও সফলভাবে বয়ে নিয়ে চলেছেন। সম্প্রতি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হওয়া আগের ম্যাচে তিনি ব্যাট হাতে বড় রান করতে ব্যর্থ হলেও মাত্র ২২ বছর ২২ও দিন বয়সে মহিলাদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুততম এবং সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ৩,০০০ রান পূর্ণ করার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে মাত্র ২,১৮২ বল খেলে এই বিরল মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। চলতি বছরে টি-টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে তাঁর পরিসংখ্যান অত্যন্ত উজ্জ্বল; ১৯টি ইনিংসে ২৮.৫৭ গড় এবং ১৫१.৬৭-এর অবিশ্বাস্য স্ট্রাইক রেটে তিনি পাঁচটি ফিফটিসহ মোট ৫৪৩ রান নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন।

ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে নিজের মানসিকতা সম্পর্কে শেফালি জানিয়েছেন, অতীতের পারফরম্যান্স তাঁকে কেবল আত্মবিশ্বাস জোগায়, কিন্তু মাঠে নামার পর প্রতিটি ইনিংসই নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে। টুর্নামেন্টের নকআউট স্টেজে নামার আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত জয়ের সুবাদে ভারতীয় দল চার দিনের একটি লম্বা ও স্বস্তিদায়ক ব্রেক পেয়েছিল। এই সময়টার সঠিক সদ্ব্যবহার করে দল পুরোপুরি চনমনে হয়ে উঠেছে। শেফালির মতে, এই লম্বা বিরতি দলের খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিকভাবে রিকভারি করতে এবং অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে দারুণভাবে সাহায্য করেছে। তাই সেমিফাইনালের কঠিন লড়াইয়ের জন্য দল এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

যদিও টুর্নামেন্টে ভারতের ওপেনিং জুটি নিয়মিতভাবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে আসছে, তবুও দলের মিডল অর্ডার এবং ফিনিশারদের ধারাবাহিকতা নিয়ে সামান্য প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গিয়েছে। চলতি বছরের মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময়েও এই একই উদ্বেগের কথা বিশেষজ্ঞ মহলে আলোচিত হয়েছিল। তবে এই বিষয়টিকে খুব একটা পাত্তা দিচ্ছেন না শফালি। সতীর্থদের ক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে তিনি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন দলের ফিনিশারদের। শেফালি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেছেন যে খেলায় খারাপ দিন থাকতেই পারে, কিন্তু দলের বাকি ব্যাটাররা প্রত্যেকেই অত্যন্ত প্রতিভাবান। বিশেষ করে ভারতী ফুলমালি এবং রিচা ঘোষের মতো অভিজ্ঞ ও মারকাটারি খেলোয়াড়রা মিডল অর্ডারে দারুণ ফিনিশারের ভূমিকা পালন করে থাকেন। তাদের দক্ষতার ওপর দলের সম্পূর্ণ ভরসা রয়েছে এবং আসন্ন সেমিফাইনালে তারা দলের জয়ে বড় অবদান রাখবেন বলেই তিনি দৃঢ় আশাবাদী।