ফ্রিজারে পচা মাছ-মাংস, রান্নাঘরে বিড়াল ও আরশোলা! কলকাতার ৫৪টি বিখ্যাত রেস্তোঁরা একঝটকায় সাসপেন্ড করল পুরসভা

আজ রাজধানী কলকাতার ফুড লাভারদের জন্য একটি মারাত্মক ও চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। আমাদের শহর কতখানি নিরাপদ উপায়ে বাইরে খাচ্ছে, সেই প্রশ্ন তুলে কলকাতার মোট ৫৪টি নামী-করা রেস্তোঁরা এবং ফুড আউটলেটকে একযোগে সাসপেন্ড করার কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। স্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সম্প্রতি এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়, যা দেখে খোদ আধিকারিকদের চোখ কপালে উঠেছে।
তদন্তকারী দল যখন শহরের বিভিন্ন প্রান্তের জনপ্রিয় রেস্তোঁরাগুলির রান্নাঘরে হানা দেয়, তখন সেখানকার অভ্যন্তরীণ পরিবেশ দেখে হতবাক হয়ে যান সবাই। খাবার তৈরির জায়গায় নিয়মবহির্ভূতভাবে অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছিল বিড়াল এবং কিলবিল করছিল অগণিত আরশোলা। স্বাস্থ্যবিধিকে পুরোপুরি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছিল রকমারি মুখরোচক পদ রান্নার কাজ। শুধু তাই নয়, রেস্তোঁরাগুলির ডিপ ফ্রিজার পরীক্ষা করতেই উদ্ধার হয় দিনের পর দিন ধরে জমে থাকা পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত মাছ এবং মাংস। গ্রাহকদের পাতে এই ধরনের বিষাক্ত ও বাসি খাবার পরিবেশন করা হচ্ছিল জেনেশুনেও, যা সরাসরি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে মারাত্মক অপরাধমূলক প্রতারণার শামিল।
কলকাতা পুরসভার ফুড সেফটি উইং স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার বিন্দুমাত্র অধিকার কারোর নেই। এর আগেও একাধিকবার ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া বা এফএসএসএআই-এর গাইডলাইন মেনে চলার জন্য শহরের সমস্ত রেস্তোঁরা ও হোটেল মালিকদের সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু বারবার নির্দেশিকা অমান্য করায় এবার আর কোনো রাখঢাক না রেখে সরাসরি আইনি পদক্ষেপ হিসেবে ৫৪টি আউটলেটের লাইসেন্স সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। যতদিন না এই সমস্ত প্রতিষ্ঠান তাদের রান্নাঘরের হাইজিন লেভেল এবং পরিকাঠামো আমূল পরিবর্তন করছে, ততদিন পর্যন্ত তাদের দরজা বন্ধই থাকবে। এই ঘটনায় গোটা শহরজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।