DA ও অগ্রিম বেতনে বড় আপডেট! জেনেনিন ৩৮% ডিএ সহ কবে অ্যাকাউন্টে ঢুকছে বেতন?

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য দারুণ খবর। আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হতে চলা ২০ শতাংশ অতিরিক্ত মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র সঙ্গে পুজোর ছুটির আগেই অক্টোবর মাসের আগাম বেতন কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে। রাজ্য সরকারের অর্থ দফতরের অডিট শাখা থেকে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি মাসের শেষ কর্মদিবসে রাজ্য সরকারি কর্মীরা বেতন পেয়ে থাকেন এবং মাসের প্রথম দিনে বেতন পান শিক্ষক-শিক্ষিকারা। অক্টোবর মাসেও এই নিয়ম বহাল থাকবে। তবে পুজো উপলক্ষে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে সরকারি অফিসগুলিতে ছুটি শুরু হয়ে যাওয়ায়, ১৩ বা ১৪ অক্টোবরের মধ্যেই কর্মীদের অ্যাকাউন্টে অগ্রিম বেতন এবং সংশোধিত মূল বেতনের ৩৮ শতাংশ হারে ডিএ ঢুকবে। একই সঙ্গে রাজ্য সরকারি পেনশনভোগী ও পারিবারিক পেনশনভোগীদের জন্যও ৩৮ শতাংশ হারে মহার্ঘ ত্রাণ বা ডিআর কার্যকর হবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
শুধুমাত্র রাজ্য সরকারি কর্মীরাই নন, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অন্যান্য স্থানীয় সংস্থার নির্দিষ্ট কর্মীরাও এই বর্ধিত ডিএ এবং অগ্রিম বেতনের আওতাভুক্ত থাকবেন।
বেতন ও ডিএ কত বাড়ল?
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংশোধিত মূল বেতনের ওপর হিসাব করে এই অতিরিক্ত ডিএ দেওয়া হবে। যেমন:
৩০,০০০ টাকা বেসিক পে: এতদিন ১৮ শতাংশ হারে ৫,৪০০ টাকা মিললেও, এখন ৩৮ শতাংশ হারে মিলবে ১১,৪০০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে অতিরিক্ত ৬,০০০ টাকা আয় বাড়বে।
৪০,০০০ টাকা বেসিক পে: এতদিন ৭,২০০ টাকা পাওয়া গেলেও, এখন মিলবে ১৫,২০০ টাকা। অর্থাৎ সরাসরি ৮,০০০ টাকা বেশি হাতে আসবে।
৫০,০০০ টাকা বেসিক পে: আগের ৯,০০০ টাকার পরিবর্তে নতুন হারে মিলবে ১৯,০০০ টাকা। ফলে ১০,০০০ টাকা অতিরিক্ত বৃদ্ধি পাবে।
৬০,০০০ টাকা বেসিক পে: এতদিন ১০,৮০০ টাকা পেলেও, এখন থেকে ২২,৮০০ টাকা পাবেন কর্মীরা। এতে প্রতি মাসে ১২,০০০ টাকা বেশি যোগ হবে।
বকেয়া ডিএ ও সপ্তম পে কমিশন
নতুন বর্ধিত ডিএ ছাড়াও সেপ্টেম্বর মাসে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র দ্বিতীয় কিস্তি দেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রুপ-এ, বি এবং সি কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বকেয়া সরাসরি জিপিএফ (GPF) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। শুধুমাত্র গ্রুপ-ডি কর্মী এবং বর্তমান পেনশনভোগীরা এই বকেয়া অর্থ সরাসরি নগদ আকারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। পাশাপাশি, সপ্তম পে কমিশন কার্যকর করার প্রক্রিয়াও জোরকদমে শুরু হয়েছে, যার জন্য আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি ওয়েবসাইটে সংগঠন ও কর্মীরা নিজেদের মতামত বা মেমোরান্ডাম জমা দিতে পারবেন।