মাছ থাকবে জালেই, কচ্ছপ যাবে বেরিয়ে! সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় অভিনব আবিষ্কার ঘিরে তোলপাড় মৎস্যমহল

অনিয়ন্ত্রিতভাবে মাছ ধরার কারণে বর্তমানে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র। গভীর সমুদ্রে ট্রলারের জালের টানে মাছের পাশাপাশি আটকে পড়ে বিভিন্ন নিরীহ সামুদ্রিক প্রাণী। বিশেষ করে রাতের বেলা মাছ ধরার সময় সবথেকে বেশি বিপদের মুখে পড়ে সামুদ্রিক কচ্ছপ। জালে দীর্ঘ সময় আটকে থাকার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে প্রতি বছর বহু কচ্ছপের অপমৃত্যু ঘটে। এই মারাত্মক সমস্যার স্থায়ী সমাধান খুঁজতে এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে উপকূলবর্তী এলাকার মৎস্যজীবীদের ট্রলারের জালে বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে একটি বিশেষ যন্ত্র, যার পোশাকি নাম ‘টার্টল এক্সক্লুডার ডিভাইস’ বা সংক্ষেপে ‘টিইডি’।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অত্যাধুনিক যন্ত্রটি জালের মধ্যে নির্দিষ্ট জায়গায় বসানো থাকলে মাছ ও ছোট চিংড়ি নিরাপদে জালের ভেতরে চলে যাবে, কিন্তু তুলনামূলকভাবে আকারে বড় কচ্ছপ জালে আটকে গেলেও এই যন্ত্রের বিশেষ ফাঁক দিয়ে খুব সহজেই বেরিয়ে যেতে পারবে। টিইডি মূলত ধাতব বা শক্ত পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি বিশেষ গ্রিডের কাঠামো। এর সুনির্দিষ্ট নকশার কারণে মাছ আটকে গেলেও কচ্ছপের মৃত্যুর আশঙ্কা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যাবে।
তবে এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে মৎস্যজীবী মহলে। এ বিষয়ে মৎস্যজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি হারাধন ময়রা জানিয়েছেন, যন্ত্রটি সবেমাত্র এসেছে এবং বলা হচ্ছে এর মাধ্যমে কচ্ছপ নিরাপদে বেরিয়ে যেতে পারবে। তবে এই নিয়ে জেলেদের আরও বিস্তারিত জানার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁরা জালের মধ্যে এই যন্ত্রটি বসিয়ে বাস্তবে পরীক্ষা করে দেখতে চান যে মাছ ধরার পরিমাণে এর কোনো প্রভাব পড়ছে কি না এবং সার্বিকভাবে এর কার্যকারিতা কেমন হয়। সবমিলিয়ে, পরিবেশ রক্ষা এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার এই অভিনব উদ্যোগ এখন বঙ্গোপসাগরীয় উপকূলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।