এই জন্যই সাঁওতালদের সঙ্গে বসতে নেই! বিডিওর বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের অভিযোগে রণক্ষেত্র বর্ধমান

সংবিধানের গণ্ডিতে থেকে আদিবাসী সমাজকে নিয়ে অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠল এক বিডিও-র (BDO) বিরুদ্ধে। খণ্ডঘোষের বিডিও-র বিরুদ্ধে জাতিবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে বুধবার পূর্ব বর্ধমানের কাঁটাপুকুর এলাকায় তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়ল ‘ভারত জাকাত মাঝি পরগনা মহল’ নামের একটি আদিবাসী সংগঠন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বর্ধমান–বাঁকুড়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানোর জেরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ছড়ায়।

ঘটনার সূত্রপাত জমি সংক্রান্ত একটি দীর্ঘদিনের দাবিকে কেন্দ্র করে। সংগঠনের দাবি, খণ্ডঘোষের কাঁটাপুকুর এলাকার একটি নির্দিষ্ট জমি গত ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আদিবাসী সমাজ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান, দিবস পালন এবং উপাসনার কাজে ব্যবহার করে আসছে। পাশাপাশি ওই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে পড়ুয়াদের খেলার মাঠ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে জায়গাটি সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছিল আদিবাসী সংগঠন। কিন্তু অভিযোগ, ২০২৬ সালে এই নিয়ে বিডিওর সঙ্গে আলোচনা হলেও তাঁদের সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়নি।

সংগঠনের অভিযোগ, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিডিওর পক্ষ থেকে ফের আলোচনার জন্য তাদের দপ্তরে ডাকা হয়। পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে সংগঠনের প্রতিনিধিরা সেখানে গেলে একটি রেজোলিউশন খাতায় সই করতে বলা হয়। কিন্তু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে তাঁরা সেই মুহূর্তে সই করতে অস্বীকার করেন। অভিযোগ, ঠিক সেই সময়ই বিডিও ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের উদ্দেশে বলেন, “এই জন্যই সাঁওতালদের সঙ্গে মিটিংয়ে বসতে নেই।” উপস্থিত প্রতিনিধিরা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ—এ কথা জানার পরেই এই ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে সংগঠন।

এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সংগঠনের সদস্য বিকাশ মণ্ডল জানান, একজন প্রশাসনিক আধিকারিক ও এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মুখ থেকে যদি এমন জাতিবিদ্বেষী মন্তব্য আসে, তবে সাধারণ মানুষ আইনের কাছে কীভাবে ন্যায়বিচার পাবে? শুধু তাই নয়, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানি এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মদন রাঠোরের বিরুদ্ধেও আদিবাসীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে সংগঠন। এই ঘটনার জেরে এবার অভিযুক্ত বিডিও-র বিরুদ্ধে খণ্ডঘোষ থানায় লিখিত অভিযোগ তথা এফআইআর (FIR) দায়ের করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে আদিবাসী সংগঠনটি।