হোটেলের কামরা থেকে সোজা কাদারোড! দুর্গাপুরে পুলিশের মেগা সাইবার হানায় গ্রেফতার জামতাড়া গ্যাংয়ের ১০ প্রতারক

আসন্নসোলের পর এবার শিল্প শহর দুর্গাপুরেও শিকড় ছড়াল কুখ্যাত জামতাড়া গ্যাং। সাইবার প্রতারণার অভিযোগে দুর্গাপুরের বিভিন্ন প্রান্তে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে মোট ১০ জন অভিযুক্ত। তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকদের সূত্রে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে যে, ধৃতদের মধ্যে অন্তত ৫ জনের বাড়ি পার্শ্ববর্তী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে।
গতকালের ঘটনাপ্রবাহে প্রথম বড় সাফল্য পায় আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের কোকওভেন থানা এলাকার পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ একটি স্থানীয় হোটেলে হানা দেয় এবং সেখান থেকে হাতেনাতে ৪ জন যুবককে গ্রেফতার করে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ধৃত ওই চারজনের প্রত্যেকেরই আদি বাড়ি ঝাড়খণ্ডেই। দিনভর বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া সেরে গতকালই তাদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়।
এই প্রাথমিক গ্রেপ্তারের রেশ কাটতে না কাটতেই বিকেলে ফের নড়েচড়ে বসে পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানার অন্তর্গত কাদারোড এলাকায় অতর্কিতে অভিযান চালিয়ে আরও ৫ জন সাইবার অপরাধীকে পাকড়াও করা হয়। এদের মধ্যে ১ জনের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলায় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশি তল্লাশিতে ধৃতদের আস্তানা থেকে একাধিক সন্দেহজনক পেনড্রাইভ, প্রচুর এটিএম কার্ড, ডিজিটাল হার্ডডিস্ক এবং বিভিন্ন অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস বাজেট করা হয়েছে।
দিনের শেষে এই ধরপাকড় এখানেই থামেনি। দুর্গাপুরের নিউটাউনশিপ থানা এলাকাতেও বিশেষ অভিযান চালিয়ে আরও ১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সবমিলিয়ে একদিনের ব্যবধানে দুর্গাপুরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১০ জন সাইবার অপরাধীর গ্রেফতারিতে রীতিমতো আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে স্থানীয় মহলে। কীভাবে এই গ্যাং শহরের বিভিন্ন প্রান্তে নিজেদের ডেরা বিস্তার করেছিল এবং এর পেছনে আরও কোনো বড় মাথা যুক্ত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে এখন জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন।