যত বেশি কর্মসংস্থান, তত বড় আর্থিক সুবিধা! শিল্পপতিদের টানতে নতুন ইনসেনটিভ পলিসির ছক কষছে রাজ্য?

বিনিয়োগ টানতে এবং শিল্পায়নের গতি বাড়াতে এবার আরও বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সূত্রের খবর, বিনিয়োগকারীদের বাংলায় আরও বেশি করে আকৃষ্ট করতে একটি নতুন ও আকর্ষণীয় ‘ইনসেনটিভ পলিসি’ বা উৎসাহমূলক নীতি তৈরির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। এই নতুন শিল্পনীতির মূল লক্ষ্য হলো—বৃহৎ বিনিয়োগের পথ সুগম করার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগকে সর্বোচ্চ স্তরে নিয়ে যাওয়া।
নতুন এই নীতিতে শিল্প সংস্থাগুলির জন্য একগুচ্ছ লোভনীয় সুবিধার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিশেষ ভর্তুকি। শিল্প মহলে উৎপাদন খরচ কমাতে ঠিক কতটা বিদ্যুৎ ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমীক্ষা করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরকে। শুধু তাই নয়, এর পাশাপাশি স্টেট জিএসটি বা এসজিএসটি (SGST) খাতে রিইম্বার্সমেন্ট বা কর ফেরতের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া যায় কি না, তাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে রাজ্য সরকার।
নতুন শিল্পনীতির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘কর্মসংস্থানমুখী ইনসেনটিভ মডেল’। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো শিল্প সংস্থা রাজ্যে কত মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি করছে, তার পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে তাদের আর্থিক সুবিধার বহর। অর্থাৎ, বিনিয়োগের অঙ্কের পাশাপাশি চাকরি সৃষ্টির সংখ্যাকে সরাসরি ইনসেনটিভের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে রাজ্য। কোনো সংস্থা যদি বড় পরিমাণে বিনিয়োগ করে এবং অধিক সংখ্যক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে, তবে তারা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সরকারি সুবিধা এবং বিশেষ আর্থিক ইনসেনটিভ লাভ করবে।
এছাড়াও, নতুন শিল্পে কর্মসংস্থানের উপযোগী দক্ষ কর্মী তৈরির জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি, কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফাণ্ড বা ইপিএফ-এ (EPF) নিয়োগকর্তার প্রদেয় অর্থের একটি অংশ রাজ্য সরকার বহন করতে পারে কি না, তা নিয়েও প্রশাসনিক স্তরে নিবিড় পর্যালোচনা চলছে। শিল্পের প্রকৃতি, বিনিয়োগের পরিধি এবং ‘স্কেল অফ ইনভেস্টমেন্ট’-এর কথা মাথায় রেখেই বিভিন্ন সংস্থার জন্য ইনসেনটিভের পরিমাণ নির্ধারিত হবে।
জানা গিয়েছে, এই নতুন শিল্পনীতি তৈরির জন্য রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ মন্ত্রীগোষ্ঠী গঠন করেছে, যারা ইতিমধ্যেই একাধিক দফায় বৈঠক সেরেছেন। আর মাত্র এক-দু’টি বৈঠকের পরেই এই হাই-ভোল্টেজ ইনসেনটিভ নীতির সম্পূর্ণ রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে দেশ তথা বিদেশের শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের সামনে বাংলাকে অন্যতম সেরা শিল্প গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরতে এই নতুন ইনসেনটিভ পলিসিকেই প্রধান হাতিয়ার করতে চলেছে রাজ্য।