গত ৬০ বছরের রেকর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল বৃষ্টি! এশিয়ান গেমস শুরুর আগে নাগোয়ায় মহাপ্রলয়

হাতে আর মাত্র গোনা কয়েকটা দিন বাকি। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের আইচি ও নাগোয়া প্রদেশে শুরু হতে চলেছে মর্যাদাপূর্ণ ২০তম এশিয়ান গেমসের মেগা আসর। ঠিক এমন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই অলিম্পিক গেমস শুরুর ঠিক আগে এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে জাপানের অন্যতম প্রধান ও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ শহর নাগোয়া। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে রেকর্ড ভাঙা ১০৪ মিলিমিটার মুষলধারে বৃষ্টিতে নিমেষেই জলের তলায় তলিয়ে গেছে ওই শহরের বিস্তীর্ণ এলাকা। বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে যে, নাগোয়া ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ স্তরের বৃষ্টিপাত ও সর্বাত্মক বন্যা সতর্কতা জারি করতে বাধ্য হয়েছে জাপানের আবহাওয়া দপ্তর। স্থানীয় বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ৬০ বছরে নাগোয়া এমন নজিরবিহীন ও তাণ্ডবশালী বৃষ্টির মুখ দেখেনি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই যেসব ছবি ও ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে যে নাগোয়ার মূল রাজপথগুলো নদীমাতৃক রূপ ধারণ করেছে, ফলে গোটা যাতায়াত ও পরিবহন ব্যবস্থা একপ্রকার সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। পাতাল রেল বা সাবওয়ে স্টেশন, ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা এবং নিচু এলাকার আবাসিক বাড়িগুলোতে হু হু করে বৃষ্টির জল ঢুকতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচুতে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং অতি প্রয়োজন ছাড়া একেবারেই ঘরের বাইরে না বেরোনোর কঠোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে জল দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে উচ্চ ক্ষমতার পাম্প ব্যবহার করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকারী দলগুলো সক্রিয়ভাবে ময়দানে নেমেছে।

এই আকস্মিক ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় গোটা ক্রীড়াজগতে এবং আয়োজকদের অন্দরে বড় ধরনের দুশ্চিন্তার কালো মেঘ ডেকে এনেছে। কারণ, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে এই নাগোয়া শহরেই বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে শুরু হতে চলেছে ‘এশিয়ান গেমস ২০২৬’-এর ঐতিহাসিক আসর। খেলাধুলার এই মহাযজ্ঞ শুরুর ঠিক দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শহরের এই ভয়াবহ জলমগ্ন দশা গেমসের মূল পরিকাঠামো, আধুনিক ভেন্যু এবং আগত অ্যাথলেটদের নিরাপত্তা নিয়ে অত্যন্ত গম্ভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ১৯৫৮ সালের টোকিও এবং ১৯৯৪ সালের হিরোশিমার পর এই নিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশিয়ান গেমস আয়োজন করতে চলা জাপানের কাছে এটি এক বিরাট প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ। বিশাল ব্যয় সংকোচন ও পরিবেশ রক্ষার কথা মাথায় রেখে আয়োজকরা মূলত বিদ্যমান পরিকাঠামো ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক পরিবেশবান্ধব আসর নামানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।

উল্লেখ্য, জাপানের কেন্দ্রীয় অংশে অবস্থিত নাগোয়া প্রদেশ দেশটির অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক, শিল্প ও ঐতিহাসিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। টোকিও এবং ওসাকার ঠিক মাঝামাঝি অবস্থিত আইচি প্রশাসনিক অঞ্চলের এই রাজধানী শহরটি জাপানের শিল্প ও প্রযুক্তির অকৃত্রিম হৃদপিন্ড। বিশ্ববিখ্যাত অটোমোবাইল ব্র্যান্ড ‘টোয়োটা’ (Toyota)-র বিশ্বখ্যাত সদর দপ্তর এবং তাদের প্রধান উৎপাদন কারখানা ঠিক এই অঞ্চলেই অবস্থিত। এছাড়া অ্যারোস্পেস, সিরামিক এবং অত্যাধুনিক রোবোটিক্স শিল্পের জন্যও নাগোয়া বিশ্বজুড়ে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছে। মহাদেশের ৪৫টি দেশের হাজার হাজার সেরা অ্যাথলেটের অংশগ্রহণে আয়োজিত হতে চলা এই মেগা ইভেন্টের আগে প্রকৃতির এই রুদ্ররোষ শেষ পর্যন্ত গেমসের ভাগ্যকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।