জেলে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচতে হবে? সুপ্রিম কোর্টের কড়া শর্তে বড় বিপাকে জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব!

চেক-বাউন্স সংক্রান্ত দীর্ঘমেয়াদী ও জটিল আইনি লড়াইয়ে এবার আরও বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদব। তিন মাসের কারাদণ্ডের রায়ের মুখোমুখি হওয়া এই অভিনেতার সামনে এখন একটাই রাস্তা খোলা রেখেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত—জেল এড়াতে হলে অবিলম্বে জমা দিতে হবে বিশাল অঙ্কের অর্থ। সুপ্রিম কোর্টের নতুন এবং অত্যন্ত কড়া শর্ত অনুযায়ী, আগামী বুধবারের মধ্যে আদালতের নির্দিষ্ট রেজিস্ট্রিতে নগদ ৫ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। তবেই তাঁর শাস্তির নির্দেশ আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়টি বিবেচনা করবে দেশের শীর্ষ আদালত। অন্যথায় তাঁকে ফের সোজা তিহাড় জেলের পথ ধরতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিনেতার বিরুদ্ধে চলা এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের শেকড় লুকিয়ে রয়েছে প্রায় দেড় দশক আগের এক ব্যবসায়িক চুক্তির মধ্যে। ২০১০ সালে নিজের পরিচালনায় ‘অতা পতা লাপতা’ নামের একটি ছবি তৈরির জন্য মুরলী প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেড নামক একটি সংস্থার কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নিয়েছিলেন রাজপাল। দুর্ভাগ্যবশত, ছবিটি বক্স অফিসে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয় এবং ব্যবসায়িক সাফল্য না পাওয়ার কারণে সেই ঋণ যথাসময়ে পরিশোধ করা অভিনেতার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠেনি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুদের অঙ্ক বাড়তে বাড়তে এই বকেয়ার মোট পরিমাণ প্রায় ৯ কোটি টাকায় গিয়ে ঠেকে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ঋণ পরিশোধের উদ্দেশ্যে দেওয়া রাজপালের সাতটি চেক পরপর বাউন্স করে। এই অভিযোগে অভিনেতা, তাঁর স্ত্রী রাধা রাজপাল যাদব এবং তাঁদের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করে ঋণদাতা সংস্থা। ২০১৮ সালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রাজপাল ও তাঁর স্ত্রীকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং অভিনেতার ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। পরের বছর দায়রা বা সেশনস আদালতও সেই সাজা বহাল রাখে। এরপর আইনি লড়াই গড়ায় দিল্লি হাইকোর্টে। ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট তাঁর সাজা সাময়িকভাবে স্থগিত করে বকেয়া মেটানোর একটি বাস্তবসম্মত সুযোগ দিলেও অভিনেতা পুরো অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে, যখন আদালতের নির্দেশে আত্মসমর্পণের পর তাঁকে তিহাড় জেলে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অভিযোগকারী পক্ষের সম্মতিতে ১.৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার শর্তে তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান এবং সেই সুরক্ষার মেয়াদ পরে কিছুদিনের জন্য বৃদ্ধিও করা হয়। বকেয়া অর্থের ব্যবস্থা করার জন্য আদালতের কাছে আরও ৩০ দিন সময় প্রার্থনা করেছিলেন অভিনেতা, কিন্তু দিল্লি হাইকোর্ট সেই আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গত ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই তাঁর আত্মসমর্পণের কথা ছিল। কিন্তু জেল যাত্রার ঠিক প্রাক্কালে বাঁচার শেষ চেষ্টা হিসেবে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন অভিনেতা।
গত মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বিশেষ বেঞ্চে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। উভয় পক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর আদালত ৫ কোটি টাকা জমা দেওয়ার এই নতুন শর্তটি সামনে আনে। এখন গোটা দেশের নজর রয়েছে যে, অভিনেতা রাজপাল যাদব এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে জমা দিতে সফল হন কি না। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ শুনানি ধার্য করা হয়েছে, যেখানে নির্ধারিত হবে অভিনেতার আগামী দিনের আইনি ভাগ্য।