হার্টবিট কমলেও ব্রেনে বাড়বে ব্লাড ফ্লো! বাজারে আসার আগেই তাক লাগাল জেটো সিইওর নতুন আবিষ্কার

সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা এবং ব্যাপক কৌতূহলের জন্ম দেওয়ার পর অবশেষে জোম্যাটো ও ব্লিংকিটের প্রধান নির্বাহী দীপিন্দর গোয়াল তাঁর অত্যন্ত প্রতীক্ষিত এবং অভিনব পরিধানযোগ্য ডিভাইস ‘টেম্পল’-এর প্রথম ব্রেইন ফ্লো ভ্যালিডেশন স্টাডি বা মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। কপালের পাশে অত্যন্ত সুচারুভাবে পরিধান করার উপযোগী এই ফিটনেস ট্র্যাকিং ডিভাইসটি মূলত মানুষের মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের পরিবর্তন নিখুঁতভাবে ট্র্যাক এবং বিশ্লেষণ করার জন্য বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এই নতুন গবেষণায় টেম্পলের ডিজিটাল রিডিং-এর সাথে ‘ট্রান্সক্রেনিয়াল ডপলার’-এর মতো একটি প্রতিষ্ঠিত ও নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা পদ্ধতির বৈজ্ঞানিক তুলনা করা হয়েছে। প্রাথমিক গবেষণার ফলাফলে এক শক্তিশালী ও ইতিবাচক পারস্পরিক সম্পর্ক লক্ষ্য করা গেছে, যদিও এই প্রযুক্তিটি এখনও তার সূচনালগ্নে রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ মহলের নজর কাড়া এই গবেষণার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে—”সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের ব্যায়াম এবং শারীরিক ভঙ্গির পরিবর্তনের সময় টেম্পল-পরিহিত অপটিক্যাল ওয়্যারেবল এবং ট্রান্সক্রেনিয়াল ডপলারের মধ্যে সামঞ্জস্য”। এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য ছিল টেম্পলের ব্রেইন ফ্লো রিডিং-এর সাথে টিসিডি (TCD)-এর রিডিং-এর নিখুঁত তুলনা করা। উল্লেখ্য, TCD হলো একটি সর্বাধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড-ভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি যা মানুষের মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী প্রধান ধমনীগুলিতে রক্ত প্রবাহের গতিপথ পরিমাপ করতে ব্যবহৃত হয়। এই পরীক্ষামূলক গবেষণায় মোট ২৩ জন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ২০ জন অংশগ্রহণকারীর কাছ থেকে উভয় পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ডেটা সফলভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
গবেষণার প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীরা সাইকেল চালিয়েছিলেন এবং তারপরে নির্দিষ্ট সময় বিশ্রাম নিয়েছিলেন। পরীক্ষার ফলাফলে দেখা যায়, ভারী ব্যায়ামের সময় মানুষের মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে বিশ্রামের সময় তা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, টেম্পলের মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের রিডিংয়েও ঠিক একই ধরনের প্যাটার্ন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্য করা গেছে। এর থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে এই ডিভাইসটি ক্লিনিক্যাল টিসিডি দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা পরিবর্তনগুলো খুব সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম। টেম্পল মূলত তার কপালের কাছে স্থাপন করা একটি উন্নত অপটিক্যাল সেনস্বরের মাধ্যমে ওই নির্দিষ্ট এলাকা থেকে সংকেত সংগ্রহ করে এবং সেগুলোকে সুচারুভাবে প্রক্রিয়াজাত করে মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের সঠিক পরিমাপ তৈরি করে।
এর পাশাপাশি দ্বিতীয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের পর্যায়ক্রমে সোজা হয়ে দাঁড়ানো এবং শোয়া অবস্থায় রাখা হয়েছিল। এই পরীক্ষার সময় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে—অংশগ্রহণকারীরা যখন শুয়ে ছিলেন, তখন পরিমাপে দেখা গেছে যে তাঁদের মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, অথচ একই সাথে তাঁদের হৃদস্পন্দন বা হার্টবিট কিছুটা কমে গেছে। চিকিৎসকদের মতে এই ফলাফল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ শুধুমাত্র হৃদস্পন্দন বা নাড়ির গতি পর্যবেক্ষণ করে সবসময় মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহের প্রকৃত অবস্থা বা জটিলতা বোঝা সম্ভব হয় না। টেম্পলের অনন্য সেন্সর এমন সূক্ষ্ম পরিবর্তনও মুহূর্তে শনাক্ত করতে পারে। উভয় পরীক্ষায় গবেষকরা ব্যক্তি পর্যায়ে টেম্পলের রিডিং এবং টিসিডি পরিমাপের মধ্যে প্রায় ০.৮-এর একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন।
গবেষকরা অবশ্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে এটি অল্প সংখ্যক সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে করা একটি প্রাথমিক গবেষণা এবং এটি একটি প্রিপ্রিন্ট স্টাডি যা বর্তমানে পিয়ার রিভিউয়ের অপেক্ষায় রয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে একটি বৃহত্তর ও বৈচিত্র্যময় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। এদিকে, এই গবেষণাটি এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রকাশ্যে এল যখন টেম্পল ডিভাইসটি বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসার একেবারেই দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। দীপিন্দর গোয়ালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিভাইসটির নতুন সংস্করণটি পূর্ববর্তী মডেলের তুলনায় অর্ধেকেরও কম আকারে তৈরি করা হয়েছে। এই এক্সক্লুসিভ লিমিটেড এডিশনের জন্য প্রি-অর্ডার খুব শীঘ্রই শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং চলতি ২০২৬ সালের শেষের দিকে এর শিপমেন্ট বা ডেলিভারি শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোম্পানিটি এখনও টেম্পলের চূড়ান্ত খুচরা মূল্য এবং সঠিক লঞ্চের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।