“বাঙালি কী খাবে তা কেউ ঠিক করে দিতে পারে না!” বাবাকে বয়কটের ডাক দিয়ে সোচ্চার কংগ্রেস ও তৃণমূল

দুর্গাপুজোর আনন্দ-উৎসবে বাঙালি কী খাবে এবং কী খাবে না—তা নিয়ে মধ্যপ্রদেশের বিতর্কিত ধর্মীয় প্রবক্তা ‘বাগেশ্বর বাবা’ বা ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পুজো মানেই বাঙালির খাদ্যরসিক মনে উৎসবের আমেজ আর আমিষ পদের রমরমা। কিন্তু সেই আবহেই আমিষ খাবারকে ‘নোংরা’ বলে আক্রমণ করা এবং আমিষভোজী বাঙালিদের কটাক্ষ করে ‘ভণ্ড’ বলে মন্তব্য করার জেরে চরম সমালোচনার মুখে পড়েছেন এই ধর্মগুরু। বাঙালির আবহমানকালের খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতির ওপর এই ধরনের আক্রমণকে সরাসরি বাঙালি-ভাবাবেগে সুপরিকল্পিত আঘাত হিসেবে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

এই চরম আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়ে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি। বাঙালি সেন্টিমেন্টে আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে কলকাতার ভবানীপুর ও মুচিপাড়া থানাসহ রাজ্যের একাধিক থানায় বাগেশ্বর বাবার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে এফআইআর বা অভিযোগ দায়ের করেছে কংগ্রেস। ধর্মীয় প্রবক্তাদের এহেন উসকানিমূলক মন্তব্য যে বাংলার সমাজজীবনে বিভাজনের বীজ বুনছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের কাপের আড্ডায় সর্বত্র এখন একটাই প্রশ্ন—বাঙালির পাতে কি তবে ভিনরাজ্যের কেউ হাতা-খুন্তি চালাবে?

এই পুরো বিতর্কের মাঝেই রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও চরমে উঠেছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অত্যন্ত সংযত অথচ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যে কোনও মানুষেরই স্বাধীনভাবে নিজের ইচ্ছেমতো কথা বলার অধিকার রয়েছে। ঠিক তেমনি আমাদেরও নিজস্ব পছন্দমতো খাবার খাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার আছে। তাহলে কে কী বলছে, তা নিয়ে এত মাথা ঘামাচ্ছেন কেন? বাঙালিকে তো কেউ নির্দিষ্ট করে নির্দেশ দিতে পারে না যে বাঙালি ঠিক কী খাবে।”

অন্যদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে। কালীঘাটের বিশিষ্ট তৃণমূল নেতা ও মুখপাত্র কুণাল ঘোষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কে নিরামিষ খাবে, কখন খাবে আর কে আমিষ খাবে বা কখন খাবে না—এই সমস্ত জিনিস আমরা ভারতীয় জনতা পার্টি বা তাদের মদতপুষ্টদের কাছ থেকে শুনব না। বাংলার সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সচেতন। ভিনরাজ্য থেকে এসে কারা কোন এজেন্ডা চাপিয়ে দিতে চাইছে, তা এ রাজ্যের মানুষ খুব পরিষ্কারভাবে দেখতে পাচ্ছে এবং সময়মতো এর উপযুক্ত জবাবও মিলবে।” সব মিলিয়ে পুজোপ্রাক্কালে এই খাদ্য-বিতর্ক এখন বাংলার রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় বহু গুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।