“৯০ শতাংশ হোটেলেই নেই অগ্নি নিরাপত্তার ব্যবস্থা”-৯১৯টি হোটেল, গেস্ট হাউস সাময়িক বন্ধ করল প্রশাসন

মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন গেস্ট হাউসে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই শহরের হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ শুরু করল প্রশাসন। কলকাতার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসগুলির অন্দরের নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ হয়েছে আধিকারিকদের। অগ্নি নিরাপত্তার বাধ্যতামূলক নিয়ম এক্কেবারে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শহরের ৯১৯টি হোটেল ও গেস্ট হাউসকে এবার সাময়িক ভাবে বন্ধের নোটিস ধরানো হয়েছে।

তদন্তে উঠে এল মারাত্মক চিত্র

দমকল বিভাগ, কলকাতা পুরসভা এবং কলকাতা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি এই অভিযান চালানো হয়। যৌথ এই পরিদর্শনের পরই মূলত কড়া নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত শহরের প্রায় ৯৬০টি হোটেল ও গেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে মাত্র ৪১টিতে প্রয়োজনীয় অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছিল। বাকি ৯১৯টি জায়গাতেই চরম ফাঁকফোকর ও গাফিলতি ধরা পড়েছে।

প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বন্ধের নোটিস পাঠানো হয়েছে, তাদের অবিলম্বে নির্ধারিত নিয়ম মেনে অগ্নি নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করতে হবে। এরপর ফের ফায়ার সেফটি সার্টিফিকেট (RFSC) রিনিউ করানোর পরেই নতুন করে ব্যবসা চালুর লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা যাবে।

আগামী দিনেও চলবে কড়া নজরদারি

সূত্রের খবর, দমকল, পুরসভা ও পুলিশের যৌথ টিম এখনও পর্যন্ত কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা মোট ৩৭০০টি হোটেল ও গেস্ট হাউসের মধ্যে প্রায় ৯৬০টিতে তল্লাশি চালিয়েছে। অর্থাৎ এখনও পর্যন্ত মাত্র এক-চতুর্থাংশ জায়গায় এই পরিদর্শন হয়েছে। বাকি হোটেল এবং গেস্ট হাউসগুলিতেও খুব শীঘ্রই এই চেকিং অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।

উল্লেখ্য, গত ১৯ আগস্ট কলকাতার একেবারে প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত নিউমার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ নামক গেস্ট হাউসে এক ভয়ংকর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মর্মান্তিক ওই দুর্ঘটনায় সাত জন বাংলাদেশি নাগরিক-সহ মোট নয় জনের মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ন্যূনতম অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছাড়াই বেআইনিভাবে চলছিল ওই গেস্ট হাউসটি। সেই ভয়াবহ ঘটনার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন এবং শহরজুড়ে বহুতল ও হোটেলগুলির নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।