রেলের ইতিহাসে যুগান্তকারী বিপ্লব! মাত্র ৪ শতাংশ ট্র্যাকেই কীভাবে দেশের ১৪ শতাংশ মালগাড়ির বোঝা টানছে ডিএফসি?

ভারতীয় রেলের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সূচনা করেছে ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর (DFC) নেটওয়ার্ক। ডিএফসিসিআইএল (DFCCIL)-এর নির্মিত পাঞ্জাবের নিউ সাহনেওয়াল থেকে বিহারের নিউ সোননগর পর্যন্ত ১,৩৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্টার্ন করিডোর এবং উত্তরপ্রদেশের নিউ দাদরি থেকে মহারাষ্ট্রের জেএনপিএ পর্যন্ত ১,৫০৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ওয়েস্টার্ন করিডোর নিয়ে গঠিত এই মোট ২,৮৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পরিকাঠামো। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে ওয়েস্টার্ন করিডোরের শেষ অংশটি চালুর ফলে দেশের পশ্চিম উপকূলীয় বন্দরের সঙ্গে পণ্য পরিবহণের যোগাযোগ আরও অনেক বেশি সুগম হয়েছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই নতুন নেটওয়ার্কটি অত্যন্ত কম সময়ে নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করেছে। ভারতীয় রেলের মোট নেটওয়ার্কের মাত্র ৪ শতাংশেরও কম অংশ ব্যবহার করে এই বিশেষ করিডোরগুলি বর্তমানে দেশের মোট রেল পণ্য পরিবহণের ১৪ শতাংশেরও বেশি সফলভাবে পরিচালনা করছে। চলতি বছরের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৫.২১ লক্ষ মালবাহী ট্রেন এই নেটওয়ার্কে চলাচল করেছে, যার দৈনিক গড় প্রায় ৪৩৫টি ট্রেন। এর জেরে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের সামগ্রিক পণ্য পরিবহণের পরিমাণ একলাফে ১৩.৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শিল্প সংস্থা, ব্যবসায়ী এবং কৃষকদের জন্য এই উন্নত পরিকাঠামো বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। চা, উদ্যানজাত পণ্য এবং অন্যান্য সময়-সংবেদনশীল বা দ্রুত পচনশীল সামগ্রী এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের উৎপাদন কেন্দ্র, ভোক্তা বাজার ও বন্দরের সঙ্গে আরও দ্রুত সংযোগ স্থাপন করতে পারছে।